রান, তাসকিন রান!

তাসকিনের ফর্ম সেই প্রত্যাশাকে পূরণ করতে পারলে, বিদেশি মাটিতেও তার গতি আর কৌশল দেখাবে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। বয়স এখন ৩০। ফাস্ট বোলারদের জন্য এটাই পূর্ণতা প্রাপ্তির সময়। তাসকিন নিজে কি সেই উত্তাপটা টের পাচ্ছেন?

আলোচনার কেন্দ্রে তিনি আগেও ছিলেন, এখনও আছেন। যদিও, এই মুহূর্তে আশা আর নিরাশার দোলাচলে ঘুরপাক খাচ্ছেন তাসকিন আহমেদ। ইনজুরি ও ব্যক্তিগত সংকটের বেড়াজাল ভেঙে তাসকিনের সামনে অর্জনের পথ একটাই, এশিয়া কাপ।

দেশের মাটিতে তাঁর পারফরম্যান্স যেমন প্রায় দুর্ভেদ্য, বিদেশে  তেমন নয়। পরিসংখ্যানে তারাই সত্যি কথা বলে—হোম কন্ডিশনে ৩১ ইনিংসে ৪৯ উইকেট, কিন্তু দেশের বাইরে ৪৫ ইনিংসে মাত্র ৪৫ উইকেট। বিদেশে ইকোনমি রেট ও স্ট্রাইক রেট তুলনামূলকভাবে মাঝারি। ঘরোয়া আধিপত্যের সঙ্গে তুলনা করলে বোঝা যায়—বিদেশে তাসকিনের পারফরম্যান্স এখনও চ্যালেঞ্জিং।

তবে আশার আলো আছে। সাম্প্রতিক সময়ে তাসকিনের খেলা নজর কাড়ার মতো উন্নতি দেখিয়েছে। মুস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে মিলিয়ে এখন তিনি বাংলাদেশের পেস আক্রমণের নেতা। শুধু উইকেট নেওয়া নয়, গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দলের জন্য চাপ তৈরি করা, ব্যাটসম্যানদের উপর মানসিক প্রভাব ফেলা—সবই এখন তার দায়িত্ব।

এশিয়া কাপের মাঠে এই দায়িত্ব আরও বড়। আরব আমিরাতে ৬ ম্যাচে তাসকিনের উইকেট ৬টি, ইকোনমি রেট ৬.২২। টি-টোয়েন্টির মানদণ্ডে এই পরিসংখ্যান ঠিক আছে, কিন্তু স্বপ্ন জেতার জন্য তা যথেষ্ট নয়।

এশিয়া কাপের মাটিতে তাসকিনকে আরও প্রমাণ করতে হবে — এশিয়ার সেরা ব্যাটারদের জন্য আতঙ্কের হতে হলে নিজের কৌশল দেখাতে হবে, দক্ষতা রপ্ত করতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ম্যাচের দিক পাল্টাতে হবে। ভয় ধরাতে হবে ব্যাটারদের মনে।

বিশ্বস্ত স্পিডস্টার হিসেবে তাসকিনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দেশের বাইরে প্রমাণ করা যে, সে কেবল হোম ডোমেইনে নয়, বিদেশি কন্ডিশনেও ব্যাটসম্যানদের হতাশ করতে পারে। সাম্প্রতিক উন্নতি, মুস্তাফিজুরের সঙ্গে সমন্বয়, এবং নিজের কৌশল ও আত্মবিশ্বাস—এই তিনের সমন্বয়ই তাসকিনকে এশিয়া কাপের পরিসরে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে পারে।

তাসকিনের ফর্ম সেই প্রত্যাশাকে পূরণ করতে পারলে, বিদেশি মাটিতেও তার গতি আর কৌশল দেখাবে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। বয়স এখন ৩০। ফাস্ট বোলারদের জন্য এটাই পূর্ণতা প্রাপ্তির সময়। তাসকিন নিজে কি সেই উত্তাপটা টের পাচ্ছেন?

লেখক পরিচিতি

সম্পাদক

Share via
Copy link