মোসাদ্দেক একা কি করবেন!

ঢাকা থামল, সৈকতের ইনিংস থামল, কিন্তু তাঁর লড়াই থামেনি। পুরো আসরজুড়ে ধারাবাহিক, আগ্রাসী, আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং—সব মিলিয়ে মোসাদ্দেকের এই টুর্নামেন্ট মনে রাখবে সবাই।

৩৬ বলে ৬১ রান—ঝড় তুলেছিলেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। আসর জুড়ে দাপট দেখানো এই ব্যাটার এলিমিনেটরেও ছিলেন ছন্দে, ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। ছয়টি ছক্কা আর দুটি চারে গড়া তাঁর ইনিংস যেন ছিল একক নাটকের মতো—রোমাঞ্চে ভরপুর, কিন্তু ট্র্যাজেডির পরিসমাপ্তি।

কারণ, সঙ্গীহীন সৈকতের সেই লড়াই শেষ পর্যন্ত বৃথা গেল। দলগত খেলায় কারও একক প্রচেষ্টা সব সময় কাজে লাগে না। লো-স্কোরিং এক থ্রিলারে শেষ হাসি হেসেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন রংপুর বিভাগ।

এক বল হাতে রেখেই তারা টেনে নিয়েছে জয়, ছিনিয়ে নিয়েছে ফাইনালের টিকিট। সৈকতের ব্যাটে আলো ছড়িয়েও ঢাকা গুটিয়ে যায় মাত্র ১২৩ রানে। জবাবে রংপুরও হোঁচট খাচ্ছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত এক উইকেট হাতে রেখেই পৌঁছে যায় জয়ের তীরে।

শেষ ওভারে নাটক জমে ওঠে তুঙ্গে। নবম ব্যাটার হিসেবে অধিনায়ক আকবর আলী আউট, তখন রংপুরের দরকার ৪ বলে ৪ রান, আর ঢাকার দরকার এক উইকেট। ঠিক সেই মুহূর্তে এগিয়ে এলেন আহত যোদ্ধা—আব্দুল গাফফার সাকলাইন।

পায়ে ব্যথা, তবু চোখে জয়ের ক্ষুধা। যখন দুই বলে দরকার দুই রান, তখনই সাহসী এক শটে বল উড়িয়ে দেন সীমানার বাইরে—চার মেরে দলকে পৌঁছে দেন গৌরবের বন্দরে।

ঢাকা থামল, সৈকতের ইনিংস থামল, কিন্তু তাঁর লড়াই থামেনি। পুরো আসরজুড়ে ধারাবাহিক, আগ্রাসী, আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং—সব মিলিয়ে মোসাদ্দেকের এই টুর্নামেন্ট মনে রাখবে সবাই। আজ হয়তো জয় আসেনি, কিন্তু তাঁর আক্ষেপটাই সবচেয়ে বড় প্রমাণ—তিনি খেলেছিলেন হৃদয় উজাড় করে।

Share via
Copy link