ক্রিকেট মাঠের বাইরে চলমান সার্কাস!

বাংলাদেশ ক্রিকেট যেন এক আশ্চর্যের আঁতুরঘর, যেখানে মাঠের থেকে মাঠের বাইরের খেলাটা একটু বেশিই হয়। সেই ধারাবাহিকতায় শেষ সংযোজন দুটি ঘটনা, মোহাম্মদ আশরাফুলকে নিয়ে রুবেল হোসেনের কাদা ছোড়াছুড়ি, আর সবচেয়ে ভয়াবহ ব্যাপার জাহানারা আলমের সাক্ষাৎকারে উঠে আসা নিগার সুলতানা জ্যোতির ‘থাপ্পড় কাণ্ড’।

বাংলাদেশ ক্রিকেট যেন এক আশ্চর্যের আঁতুরঘর, যেখানে মাঠের থেকে মাঠের বাইরের খেলাটা একটু বেশিই হয়। সেই ধারাবাহিকতায় শেষ সংযোজন দুটি ঘটনা, মোহাম্মদ আশরাফুলকে নিয়ে রুবেল হোসেনের কাদা ছোড়াছুড়ি, আর সবচেয়ে ভয়াবহ ব্যাপার জাহানারা আলমের সাক্ষাৎকারে উঠে আসা নিগার সুলতানা জ্যোতির ‘থাপ্পড় কাণ্ড’।

বাংলাদেশের ব্যাটিং ব্যর্থতা নিত্যদিনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে পরিণত হয়েছে। সমাধান যেন কোথাও নেই! তবে এবার সেই সমাধানের দায়িত্ব পেয়েছেন আশরাফুল। আয়ারল্যান্ড সিরিজে পালন করবেন বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব। আর তাতেই যেন তেতে উঠেছেন রুবেল। তিনি যেন এমনটা মানতেই পারছেন না। তবে পেছনের কারণ আসলে কী?

এক ফেসবুক পোস্টে অবশ্য আংশিক খোলাসা করেছেন। তিনি বলেন, ‘যে মাঠ একসময় বিশ্বাস হারিয়েছে, সেই মাঠেই আবার শিক্ষা দিতে আসা, জীবনটা আসলেই সিনেমা। সময় সত্যিই অদ্ভুত! যাদের একসময় উদাহরণ হিসেবে বাদ দেওয়া হয়েছিল, আজ তারা উদাহরণ দিতে এসেছে। শুনুন, নামের পাশে ‘কোচ’ লেখা মানে দায়িত্ব, গর্ব না।’

অন্য ঘটনায় আসা যাক। কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ নারী দলের ভিতরে থাকা সিন্ডিকেট নিয়ে কথা বলেছিলেন ক্রিকেট থেকে নির্বাসনে যাওয়া জাহানারা আলম। ভয়ঙ্কর সব তথ্য তুলে এনে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন নতুন করে। অভিযোগ তুলেছেন বর্তমান অধিনায়ক জ্যোতি নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন।

তিনি বলেন, ‘এখন ড্রেসিংরুমে ক্রিকেট নিয়ে আলোচনা হয় খুব কম। ক্ষমতা পেয়ে জ্যোতিও এর অপব্যবহার শুরু করে।’ এরপরই উঠে আসে ভয়াবহ তথ্য। তাঁর ভাষায়, ‘জ্যোতি প্রচুর মারধর করে জুনিয়রদের। এই বিশ্বকাপের সময়ও জুনিয়ররা আমাকে এ রকম জানিয়েছে, “না বাবা, এটা আর করব না। তাহলে আবার থাপ্পড় খেতে হবে।” কয়েকজনের কাছ থেকে জেনেছি, “কালকে মার খেয়েছি।” দুবাই সফরের সময়ও এক জুনিয়রকে রুমে ডেকে নিয়ে থাপ্পড় মেরেছে।’

শুধু তাই নয়, কিটব্যাগ টানা থেকে শুরু করে মাথার চুলে তেল দেওয়া, সবই নাকি জুনিয়রদের দিয়ে করান জ্যোতি। এমন ঘটনা সত্যি হলে নেহাত অপ্রীতিকর নয়, এটা অগ্রহণযোগ্যও বটে। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড অবশ্য এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জাহানারার বলা কথাকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে।

ঘটনা সত্য হোক কিংবা মিথ্যা, সব ছাপিয়ে ক্রিকেটের এমন অযাচিত সব কর্মকাণ্ড নীরব ঘাতকের বেশে ধ্বংসাত্মক রূপ ধারণ করেছে। ক্রিকেটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিকল্পনা করার আগে মূল লড়াইটা করতে হচ্ছে এই নীরব ঘাতকের সঙ্গে। এভাবেই চলছে আজব সার্কাস, যার কোনো শেষ নেই।

লেখক পরিচিতি

প্রত্যয় হক কাব্য

স্বপ্ন লেখার কি-বোর্ড

Share via
Copy link