১৯৯৭ সালের অদ্ভুত সেই ম্যাচ

১৯৯৭ সালের বড়দিন। ইন্দোরের একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ ক্রিকেট ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছিল অদ্ভুত এক কারণে।

শ্রীলঙ্কা ও ভারতের দ্বিতীয় ওয়ানডেটা শুরু হতেই যেন বিপদের গন্ধ। ম্যাচের বয়স তখন মাত্র তিন ওভার। হঠাৎই শ্রীলঙ্কার ব্যাটাররা আম্পায়ারদের কাছে গিয়ে পিচ নিয়ে আপত্তি তোলেন। উইকেট ছিল স্পষ্টতই বিপজ্জনক।

শুরু হয় দীর্ঘ আলোচনা—আম্পায়ার, ম্যাচ রেফারি আর দুই দলের অধিনায়ক মিলেই সিদ্ধান্তে পৌঁছান, এই অবস্থায় খেলা চালানো সম্ভব নয়। ম্যাচ পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। স্বাভাবিকভাবেই মধ্যপ্রদেশ ক্রিকেট সংস্থার কর্তাদের মুখে তখন চরম অসন্তোষ।

কিন্তু গ্যালারিতে তখন উপচে পড়া দর্শক, হাজার হাজার মানুষ অপেক্ষায় শুধু ক্রিকেট দেখার জন্য। তাই পুরোপুরি খালি হাতে দর্শকদের ফেরাতে চাননি কেউই। সমাধান হিসেবে ঠিক হয়, অন্য একটি উইকে ২৫ ওভারের একটি প্রদর্শনী ম্যাচ খেলা হবে। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে দুই দলেরই ফাস্ট বোলারদের বিশ্রামে রাখা হয়।

এই তাৎক্ষণিক ম্যাচে শ্রীলঙ্কা করে ৮ উইকেটে ১৮০ রান। ব্যাট হাতে ঝলমলে ৫৩ রান করেন সনথ জয়াসুরিয়া। জবাবে ভারত লড়াই করে থামে ৭ উইকেটে ১৭৮ রানে—জয় হাতছাড়া হলেও গল্পের নায়ক হয়ে ওঠেন হৃষিকেশ কাণিতকর।

পরিত্যক্ত ওয়ানডেতে অভিষেক হওয়ার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু সেই অভিষেক বদলে যায় এক অদ্ভুত, স্মরণীয় ইনিংসে। লড়াকু হাফ সেঞ্চুরি করে তিনি হয়ে ওঠেন ভারতের সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক—এক ব্যতিক্রমী বিকেলের সবচেয়ে উজ্জ্বল নাম। স্রেফ দর্শকদের মন রক্ষার্থে এই ম্যাচে নেমেছিল দু’দল। আজকের দিনে সম্ভবত এই দৃশ্য কল্পনাও করা যায় না।

Share via
Copy link