তিনি কোথাও নেই। ঘরোয়া ক্রিকেটে নেই, জাতীয় দলের আঙিনায় পা পড়েনি, নেই কোনো শিরোনামের পাতায়। তবে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ আসলেই বদলে যায় দৃশ্যপট। ক্রাচ ছেড়ে মাঠে গর্জে ওঠেন আলিস আল ইসলাম। ব্যাটারদের জন্য তৈরি করেন মরণফাঁদ।
আলিসের প্রতিপক্ষের সংখ্যাটা দুই, ব্যাটাররা এবং ইনজুরি। তবে ব্যাটারদের সাথে তাঁর সাক্ষাৎটা হয় প্রতি বছরের নির্দিষ্ট একটা সময়, অর্থাৎ বিপিএলে। বাকিটা সময় লড়াই চলে ইনজুরির সাথে। তবে তাতেও পারফরম্যান্সে কোনো প্রভাব পড়ে না আলিসের।
২০২৫ সালের বিপিএল দিয়েই উদাহরণ টানা যাক। চিটাগং কিংসকে ফাইনালে তোলার নায়ক সেই যে চোট পেয়ে ইনজুরিতে গেলেন, আর তাঁকে দেখা যায়নি কোথাও। সেবার ১৫ উইকেট তুলেছেন বল হাতে। এরপর ডুব দিয়ে ফিরলেন বছর শেষে, একেবারে বিপিএল শুরুর ঠিক আগে।

শঙ্কা ছিল, আলিস ফিরলে সেই ছন্দ ফিরে পাবেন তো। সারা বছর যে বল হাতে ওঠেনি তাঁর। তবে সব সংশয়ের ইতি টেনে দিলেন প্রথম ম্যাচে। তিন ওভারে ১৭ রানের বিনিময়ে শিকার করেছিলেন এক উইকেট। সবচেয়ে নজরকাড়া ব্যাপার ছিল, তাঁর রহস্য স্পিনের সামনে খাবি খেতে হয়েছে ব্যাটারদের।
পরের ম্যাচে আবারও সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখলেন। রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের ব্যাটারদের নিজের জাদুর মায়ায় বধ করলেন। চার ওভারে ১৬ রান দিয়ে তুললেন দুই উইকেট। যেন তাঁর বল বোঝা এক দুঃসাধ্য কাজ।
তবে আলিস তো এমনই। নিজেকে প্রমাণের মঞ্চ ওই বিপিএলটাই । একটা তথ্য আরও পরিষ্কার করবে বিষয়টাকে, লিস্ট এ ম্যাচে আলিসের অভিষেক হয় ২০২০ সালে, সর্বশেষ খেলেছেন ২০২৩-এ। এরপর থেকে আর কখনো তাঁকে দেখা যায়নি সেখানে।

আলিসকে তাই বলা যায় এক ঘুমন্ত দৈত্য। সারাবছর ঘুমিয়ে থাকলেও বিপিএল সামনে এলেই দানবীয় রূপে হাজির হন। প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করেন। এভাবেই চলছে আলিসের ক্যারিয়ার।











