চাপের অগ্নিকূন্ডে ছুড়ে দেওয়া হল আরিফুলকে

গত বছরেই তিনি বনে যেতে পারতেন বিপিএলের হটকেক। কিন্তু ভীষণ চাপের এই অভিষেকটাই হয়ত লেখা ছিল তার ভাগ্যে।

বেঞ্চে বসে থাকার দিন অবশেষে শেষ হয়েছে আরিফুল ইসলামের। দুই মৌসুম ধরেই বেঞ্চের সাথে হয়ে গিয়েছিল তার সখ্যতা। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে তিনি বেঞ্চে বসেই দেখেছেন ফরচুন বরিশালকে চ্যাম্পিয়ন হতে। সেই পরিস্থিতি সিলেট টাইটান্সের জার্সিতেও ছিল অব্যাহত। অবশেষে তার কপাল খুলল। বহুল আকাঙ্খার বিপিএল অভিষেকে স্নায়ুচাপে তিনি ছিলেন ভীষণ কাবু।

দলের ব্যাটিং অর্ডারের নেই কোন স্থিরতা। তবুও আরিফুলকে খেলানোর প্রয়োজন মনে করেনি সিলেট। সাত ম্যাচ ধরে তরুণ প্রতিভাবান ব্যাটার অপেক্ষায় থেকেছেন নিজের সময়ের। যখন দলের উপর রাজ্যের চাপ, ঠিক তখনই তাকে ছুড়ে দেওয়া হল অগ্নিকূণ্ডের মধ্যে। প্রচণ্ড চাপ অ্যাডসম অ্যাপেল বেয়ে নেমে গেছে পুরো ইনিংস জুড়ে।

তবুও আরিফুল, বেশ কয়েকটি শটে প্রমাণ করেছেন সক্ষমতা ও সামর্থ্য দুই-ই আছে। ফিল্ডারদের পজিশন বুঝে তিনি ফাঁকা জায়গা ব্যবহার করেছেন, রান বের করেছেন সাথে বাউন্ডারিও। সাইফউদ্দিনের মত ধূর্ত বোলারে বিপক্ষেও টানা দু’টো চার হাঁকিয়েছেন। সিলেটের প্লে-অফ খেলার সম্ভাবনা বাঁচিয়ে রাখার ম্যাচে, তার উপর ছিল মিডল অর্ডারের দায়িত্ব।

অভিষেকের উত্তেজনা তখন আরিফুলের ধমনীর দেয়ালে আঘাত করেছে বেশ দ্রুত। এসব কিছু সামলে তিনি ইনিংস মেরামতের কাজটা করে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। ২৯ বলে ৩৮টি গুরুত্বপূর্ণ রান তিনি জুড়ে দিয়েছেন দলের স্কোরবোর্ডে। ১৩১ স্ট্রাইকরেটের ইনিংসটিতে তিনি চারটি বাউন্ডারি আদায় করেছেন। দলের ৪৮ রানের মাথায় বাইশ গজে এসে, তিনি আউট হয়েছেন ১৩৪ রানের মাথায়।

মাঝে পারভেজ হোসেন ইমন ও আফিফ হোসেন ধ্রুবর মত অভিজ্ঞ ব্যাটার সাজঘরে ফিরে চাপ বাড়িয়েছেন। কিন্তু আরিফুল নিজের সামর্থ্য প্রমাণের চেষ্টা করে গেছেন সেই নিদারুণ সময়ের মাঝেও।

অথচ, গত বছরেই তিনি বনে যেতে পারতেন বিপিএলের হট কেক। কেননা তিনি যে তখন ছিলেন ছন্দে। সেবার এনসিএল টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে ১৪২ স্ট্রাইকরেটে চলেছিল তার ব্যাট, সংগ্রহ সাত ম্যাচে ২১৩ রান। কিন্তু ভীষণ চাপের এই অভিষেকটাই হয়ত লেখা ছিল তার ভাগ্যে।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link