বাংলাদেশের ন্যায্য দাবি না মানা যেন আইসিসির সুস্পষ্ট দ্বিমুখীতা

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অন্দরে ভারত-বাংলাদেশকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে যে ঘটনাপ্রবাহ তৈরি হয়েছে, তা শুধু মাঠের লড়াইয়েই সীমাবদ্ধ নেই, প্রশ্ন তুলেছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) নীতিনির্ধারণের নিরপেক্ষতা নিয়েও। ২০২৬ সালের পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের বিদায় এবং তার জায়গায় স্কটল্যান্ডের অন্তর্ভুক্তি নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করছে আইসিসির সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অন্দরে ভারত-বাংলাদেশকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে যে ঘটনাপ্রবাহ তৈরি হয়েছে, তা শুধু মাঠের লড়াইয়েই সীমাবদ্ধ নেই, প্রশ্ন তুলেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) নীতিনির্ধারণের নিরপেক্ষতা নিয়েও। ২০২৬ সালের পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের বিদায় এবং তার জায়গায় স্কটল্যান্ডের অন্তর্ভুক্তি নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করছে আইসিসির সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে।

১৯৬৫ সালে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার গন্ডি পেরিয়ে গোটা ক্রিকেট বিশ্বকে এক প্রতিষ্ঠানের আওতাভুক্ত করার লক্ষ্যেই ইম্পিরিয়াল ক্রিকেট কনফারেন্সের নাম পরিবর্তন করে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কনফারেন্স করা হয়। যা পরবর্তিতে ১৯৮৯ সালে এসে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল তথা আজকের আইসিসিতে রূপ নেয়।

ক্রিকেট বিশ্বের সর্বোচ্চ এই সংস্থা গঠনের মূল উদ্দেশ্যই ছিল নিরপেক্ষভাবে গোটা বিশ্বে ক্রিকেটকে নিয়ন্ত্রণ করা। কিন্তু কালের বিবর্তনে এই সংস্থাটি যেন কেবলই পুঞ্জীভূত হয়েছে ভারত নামক আধিপত্য বিস্তারকারী এক দেশের হাতে। যেই নীতি ভারতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হচ্ছে, সেই একই নীতি যেন বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বদলে যায়।

বাংলাদেশ-ভারতের ঘটনাপ্রবাহের শুরু হয় ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে নিরাপত্তাজনিত ইস্যুতে বাদ দেওয়ায়। এক মুস্তাফিজুর রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারা ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড কীভাবে গোটা বাংলাদেশ দল, বিশেষ করে বাংলাদেশি সমর্থক গোষ্ঠী ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে তা নিয়েই সন্দেহ প্রকাশ করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

সেই সূত্র ধরেই বাংলাদেশের ভেন্যু পরিবর্তন করে সহ-আয়োজক দেশ শ্রীলঙ্কায় নিয়ে যাওয়ার ন্যায্য দাবি তোলে বিসিবি। তবে সেই দাবিই নাকচ করে দেয় আইসিসি।

অথচ কিনা ২০২৫ সালের পাকিস্তান আয়োজিত চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ভারতের দাবি অনুসারে হাইব্রিড মডেলে আরব আমিরাতে তাদের ম্যাচ আয়োজন করা হয়। প্রথমবারের মতো আয়োজক দেশের বাইরে গিয়ে টুর্নামেন্ট ফাইনাল অনুষ্ঠিত হওয়ার মতো হাস্যকর ঘটনার সাক্ষী হয় ক্রিকেট বিশ্ব।

ভারতের ক্ষেত্রে ফাইনালসহ সব ম্যাচ অন্য এক দেশে নিয়ে যাওয়া হলেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সহ-আয়োজক দেশে নেওয়ার ক্ষেত্রেই দ্বিমুখীতা দেখাল আইসিসি। আইসিসির এহেন আচরণ যে সর্বপরি বিশ্ব ক্রিকেটেরই ক্ষতি ডেকে আনছে, তা এখন আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

লেখক পরিচিতি

ক্রীড়াচর্চা হোক কাব্য-কথায়!

Share via
Copy link