সকল অবজ্ঞা আর অবহেলার জবাব দেবেন ঋতুপর্ণারা!

একটা জয়, একটাই জয়- ভোল পালটে দিতে পারে নারীদের ফুটবল অগ্রযাত্রার। তখন প্রতিটা মুহূর্তে খোঁজ রাখা হবে- কি ঘটছে, কেন ঘটছে, কবে ঘটছে আর কিভাবে ঘটছে। পারবেন কি ঋতুপর্ণারা?

বিশ্বে যা কিছু চির কল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধক তার নর। তবে বাংলাদেশ ফুটবলের সাম্প্রতিক চিত্রপটে, নারীদের অর্জনের হিসেব-নিকেশ ছেলেদের নামের জৌলুসে খানিকটা চাপা পড়ে যায়। না মেরুকরণ নয়, আলোচনার যে এই বৈপরীত্য- তা স্পষ্ট করার প্রয়াশ মাত্র। প্রথমবারের মত এএফসি নারী এশিয়ান কাপ খেলতে বাংলাদেশের মেয়েরা উড়াল দিয়েছে। অস্ট্রেলিয়া গেড়েছে ঘাঁটি।

এবারের এএফসি এশিয়ান কাপে বাংলাদেশের মেয়েরা রয়েছে গ্রুপ-বি তে। তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে উত্তর কোরিয়া। উজবেকিস্তান ও চীন। প্রত্যেকটা দলই র‍্যাংকিংয়ে এগিয়ে বাংলাদেশের চাইতে। চীন তো আবার ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন। এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের খেলারই কথা ছিল না। কিন্তু প্রতিটা পরতে পরতে চ্যালেঞ্জ উতরেই তো এই মেয়েরা পৌঁছেছে এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চে।

ঋতুপর্ণা চাকমাদের চ্যালেঞ্জটা তো ছিল ছেলেবেলা থেকেই। কেউ পাহাড় ডিঙিয়ে স্বপ্ন ছুয়েছেন তো, কেউ গ্রাম ভর্তি মানুষের কটু কথার তিক্ত ডিঙিয়েছেন। কলসিন্দু থেকে বান্দরবনের দুর্গম পাহাড় একটা স্বপ্নের আহ্বান শুনেছিল এই মেয়েগুলো। ওই স্বপ্ন তাদের এক সুতোয় বেঁধেছিল। সাথে ছিলেন এক একরোখা ইংরেজ সাহেব।

ইতিহাসে প্রথমবার বাংলাদেশের মেয়েরা খেলতে চলেছে এশিয়ান কাপ- এই কৃতীত্বের দাবি থেকে পিটার বাটলারকে আপনি বাদ দেবেন কি করে? দলের সিনিয়র খেলোয়াড়রা তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করল। বিদ্রোহে তো ক্ষমতার সুসজ্জিত সিংহাসনও মুখ থুবড়ে পড়ে। কিন্তু বাটলারকে টলানো যায়নি। তিনি তার লক্ষ্যে ছিলেন স্থির। সেই অবিচল পর্বতের ছায়াতলে মারিয়া মান্ডারা ব্রত নিয়েছেন কিছু একটা করে দেখানোর।

সত্যি বলতে বাস্তবতা বেশ রুঢ়। এই মেয়েগুলোর হাতে ওই স্বর্ণালী শিরোপা ওঠা এক দিবাস্বপ্ন। কম গোল খাওয়াটাই যেখানে দলের লক্ষ্য। এত বড় মঞ্চে, এশিয়ার চ্যাম্পিয়নদের বিরুদ্ধে নিয়মিত খেলার সুযোগ যে হয়ে ওঠে না। তবুও তো জিততে চাইবেন শামসুন্নাহার, আলপি আক্তাররা।

একটা জয়, একটাই জয়- ভোল পালটে দিতে পারে নারীদের ফুটবল অগ্রযাত্রার। তখন প্রতিটা মুহূর্তে খোঁজ রাখা হবে- কি ঘটছে, কেন ঘটছে, কবে ঘটছে আর কিভাবে ঘটছে। পারবেন কি ঋতুপর্ণারা? তাদের হৃদয়ের জমে থাকা তিরস্কার, অবজ্ঞা আর অবহেলার ক্ষতগুলোর একটা প্রতিবাদ জানাতে?

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link