২০২৬ বিশ্বকাপটাই হতে পারে নেইমারের শেষ স্মৃতি

যখন পৃথিবীতে নেমে আসবে শীতল বিষন্নতা, ঠিক তখনই বরফের চাদরে লুকিয়ে যাবে এক আক্ষেপের সভ্যতা। যে সভ্যতার অধিপতি ছিলেন নেইমার জুনিয়র।

নেইমার, বিশ্ব ফুটবলের রাজা হতে না পারে এক দুঃখী রাজকুমার। ইনজুরি যার ফুটবল জীবনকে করে দিয়েছে দুর্বিষহ। হয়ত ২০২৬ সালটাই তার ফুটবল ক্যারিয়ারের সমাপ্তি অধ্যায়। ক্লান্ত, জরাজীর্ণ শরীরটাকে তিনি আরেকটু টেনে নিয়ে যাচ্ছেন স্রেফ ২০২৬ সালের বিশ্বকাপটা খেলবেন বলে।

ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তির অধীনে ব্রাজিল হেক্সা মিশনের পরিকল্পনার ছক আঁকতে শুরু করেছে। ডন কার্লো নিজের দলের একটা রুপরেখা নিশ্চয়ই সাজিয়ে ফেলেছেন। সবার মনেই প্রশ্ন, সেই দলে নেইমার থাকবেন তো? এই প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে কার্লো আনচেলত্তিকেও।

তিনি সরল ভাষায় বলে দিয়েছেন যে নেইমার সুস্থ থাকলে তাকে ভাবনাতে বেশ ভালভাবেই রেখেছেন। কিন্তু নেইমার? তিনি কি বিশ্বকাপকে রেখেছেন নিজের ভাবনাতেই? আলবৎ রেখেছেন। সে ভাবনার কারণেই তো তিনি জানিয়েছেন ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে হয়ত তিনি অবসর নেওয়ার চিন্তা করবেন।

যখন পৃথিবীতে নেমে আসবে শীতল বিষন্নতা, ঠিক তখনই বরফের চাদরে লুকিয়ে যাবে এক আক্ষেপের সভ্যতা। যে সভ্যতার অধিপতি ছিলেন নেইমার জুনিয়র। যার পায়ের কারিকুরিতে মুগ্ধতা ছড়িয়েছে সুদূর লাতিন আমেরিকা থেকে এই বাংলার মাঠে প্রান্তরে। ব্রাজিলের জোগো বনিতো বেঁচে ছিল যার পায়ে। সেই তিনিই গুটিয়ে ফেলবেন নিজেকে।

আর কত? একের পর এক ইনজুরি। দিনের পর দিন মাঠের বাইরে থাকার বিষন্নতা, মাঠের ফেরার আকুতি নিয়ে আর কতকাল নিজেকে টেনে নিয়ে যাওয়া যায়। তাইতো বুটজোড়া তোলার কথা ভাবতে শুরু করে দিয়েছেন তিনি। ৩৪ বছরটায় কাঁধে চেপে গেছে বার্ধক্যের ভার। তা নিয়ে বরং বিদায় নেওয়াই শ্রেয়।

তার আগে ২০২৬ বিশ্বকাপে রোমাঞ্চকর কিছু একটা করে গেলে মন্দ হয় না। তখন অন্তত হাপিত্যেশের গল্পগুলোতে লেগে যাবে এক রত্তি স্বস্তির পরদ। নেইমার পারবেন তো? ইনজুরি তাকে দেবে কি সেই সুযোগ? ব্রহ্মান্ডের ঘূর্ণন দেবে এই সকল প্রশ্নের উত্তর।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link