টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দামামা বাজার আগে থেকেই সব আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ভারতের সেই চিরাচরিত বিধ্বংসী ব্যাটিং লাইনআপ। গ্রুপ পর্বের চারটি ম্যাচ পেরিয়ে যাওয়ার পরও জনমনে আলোচনা সেই ব্যাটিং ঘিরেই। কিন্তু মাঠের ভেতরের রসায়ন বলছে ভিন্ন কথা। গ্ল্যামারাস ব্যাটিংয়ের আড়ালে ভারতের আসল শক্তি হয়ে উঠেছে তাদের ধারালো ও সুশৃঙ্খল বোলিং বিভাগ।
ক্রিকেটের এই মহারণে অভিষেক শর্মার ডাক, ঈশান কিষাণের ঝোড়ো ইনিংস কিংবা সুরিয়াকুমার-তিলক ভার্মাদের ব্যাটিংয়ের গতিপ্রকৃতি নিয়ে চায়ের টেবিল কিংবা সোশ্যাল মিডিয়া সবই সয়লাব। কিন্তু প্রচারের এই আলো থেকে কিছুটা দূরেই থেকে যান বোলাররা।
কেবল পরিসংখ্যান দিয়ে অনেক সময়ই একজন বোলারের প্রকৃত অবদান ফুটে ওঠে না। একটি ৩৫ বলের মারকুটে হাফ সেঞ্চুরি যতটা বাহবা পায়, ৪ ওভারে মাত্র ২০ রান দিয়ে উইকেটশূন্য থাকা স্পেলটি ততটা পায় না। অথচ সেই কৃপণ বোলিংই কিন্তু ব্যাটারদের জয়ের মঞ্চ গড়ে দেয়।

বর্তমান বিশ্বকাপে ভারতের বোলিং ইউনিট এক কথায় দুর্ভেদ্য। আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা বরুণ চক্রবর্তী এখন প্রতিপক্ষের জন্য এক গোলকধাঁধা। সাথে আছেন জাসপ্রিত বুমরাহর সেই চিরচেনা নিখুঁত নিশান। আর্শদ্বীপ সিংয়ের গতির সাথে অক্ষর প্যাটেলের মগজাস্ত্র, আর অলরাউন্ডার হিসেবে হার্দিক পান্ডিয়া ও শিবম দুবের কার্যকর ভূমিকা – কোন কিছুরই যেন কমতি নেই এই বোলিং লাইনআপে।
ভারতের বোলিং ঠিক কতটা নিয়ন্ত্রিত, তা তাদের ইকোনমি রেট দেখলেই স্পষ্টত হয়। বোলিং আক্রমণে প্রধান অস্ত্র বরুণ চক্রবর্তী চলমান বিশ্বকাপে ওভারপ্রতি দিয়েছেন মাত্র ৫.১৬ রান করে। স্পিন আক্রমণে তার সঙ্গী অক্ষর প্যাটেলও ওভারপ্রতি খরচ করেছেন ৬.৬৩ রান।
পেস আক্রমণের নেতা জাসপ্রিত বুমরাহ ওভার প্রতি ব্যয় করেছেন কেবল ছয় রান করে। আর্শদ্বীপ সিং দিয়েছেন ৭.৬০ রান। এমনকি হার্দিক কিংবা দুবের মত অলরাউন্ডাররাও আটের নিচে ইকোনমি বজায় রেখেছেন।

ক্রিকেটপাড়ায় একটা কথার বেশ ঘটা করেই প্রচলন আছে, ”ব্যাটসম্যানরা ম্যাচ জেতায়, বোলাররা টুর্নামেন্ট জেতায়”।ইতিহাসের পাতায় টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে ভারত যখন সুপার এইটের আঙিনায় পা রাখছে, তখন নেপথ্যে বোলাররাই হচ্ছেন প্রধান কারিগর।










