হাঁটু গেড়ে বসে পড়লেন সাঞ্জু স্যামসন। অধিনায়ক সুরিয়াকুমার যাদব কুর্নিশ করলেন। কেননা সাঞ্জু যে অনবদ্য রান তাড়া করে ভারতকে জিতিয়েছেন। বিরাট কোহলির অভাবের আক্ষেপের সুর আর দীর্ঘায়িত হতে দিলেন না। দুর্ধর্ষ এক ইনিংসে তিনি দলের সেমিফাইনাল সুনিশ্চিত করেছেন ভারত দলের দ্য সেকেন্ড চয়েজ ওপেনার।
যেই সাঞ্জু স্যামসন ছিলেন না ‘ফার্স্ট চয়েজ’ সেই তিনিই বনে গেলেন ভারতের ত্রানকর্তা। একাদশে তার খেলারই কথা ছিল না। তবে অভিষেক শর্মার অফফর্ম তার জন্য দুয়ার খুলে দিল। সেই দুয়ারে উজ্জ্বল নীলাভ আলো জ্বেলে গেলেন সাঞ্জু স্যামসন। ১২ ইনিংস পর সাঞ্জুর ব্যাটে এলো ফিফটি। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে জ্বলে উঠলেন তিনি জ্বালিয়ে রাখলেন ভারতের বিশ্ব জয়ের সম্ভাবনার আলো।
বাঁচা-মরার লড়াই। এমন ম্যাচে ভারতের বোলাররা ওয়েস্ট ইন্ডিজের আক্রমণে নিরুত্তর। ১৯৫ রানের এক ছোটখাটো পাহাড় গড়ে ফেলে ক্যারিবিয়ানরা। লক্ষ্যটা ভারতের ব্যাটিং অর্ডারের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ ছিল না মোটেও। কিন্তু অলিখিত কোয়ার্টার ফাইনালে চাপে যেকোন কিছু ঘটে যেতে পারে।

যার সূত্রপাত ঘটেছিল আবারও অভিষেক শর্মার ব্যর্থ হওয়ার মধ্য দিয়ে। ইনফর্ম ঈশান কিষাণও টিকলেন না বেশিক্ষণ। এমন পরিস্থিতিতে আস্কিং রানরেটের চাপে পিষ্ট হওয়ার কথা ছিল ভারতের। কিন্তু সাঞ্জু তেমন কোন চাপে বলয়ে ঢুকতে দেয়নি ভারতকে। একেবারে হিসেব কষা আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে, তিনি ভারতকে রেখেছিলেন সঠিক পথে।
১৯৬ রানের লক্ষ্যে ১১ ওভারের দোড়গোড়ায় ১০০ রান ছুঁয়ে ফেলে ভারতের সংগ্রহ। সেটা সম্ভব হয়েছে একমাত্র সাঞ্জুর কল্যাণে। ৩৩ বলে তার নামের পাশে ছিল তখন ৫৫ রান। নয় খানা বাউন্ডারির সাথে রানিং বিটুইন দ্য উইকেটের মিশ্রণে তিনি লম্বা সময় ধরেই ভারতকে চাপমুক্ত রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন।
কিন্তু বিশ্বকাপ শুরুর আগে তাকে নিশ্চয়ই টিম ম্যানেজমেন্ট জানিয়ে দিয়েছিল তিনি প্রথম পছন্দের ওপেনার নন। মৃদু আক্ষেপ তার হয়েছিল নিশ্চয়ই। সেই আক্ষেপকে পুষে পুষে তিনি নিজের ভেতর এক আগ্নেয়গিরির বিস্তার ঘটিয়েছিলেন নিজের ভেতরে। যা বিস্ফোরিত হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে।

শেষ অবধি সাঞ্জু ৫০ বলে ৯৭ রানের অনবদ্য, অপরাজেয়, দুর্দমনীয়, রুপকথার মত এক ইনিংস খেলে নিশ্চিত করেছেন ভারতের জয়। পরিকল্পনার অংশ নয় বলে হতাশ হতে নেই। নিজের সময়ের অপেক্ষায় থাকতে হয়। আর সময় এলে বনে যেতে হয় দলের কাণ্ডারি, কঠিন দূর্গ জয়ের নির্ভীক সেনানী।











