সাকিব ও আফ্রিদি, দুই ভিন্ন আদর্শের অবাধ্য সহোদর

উপমহাদেশের ক্রিকেটে সেই গল্পের দুই প্রধান চরিত্র- সাকিব আল হাসান ও শহীদ আফ্রিদি। একজন দীর্ঘ সময় ধরে আধিপত্য গড়ে তোলার কারিগর। অন্যজন মুহূর্তের ঝড়ে ম্যাচের গল্প বদলে দেওয়ার শিল্পী।

ক্রিকেট স্রেফ বাইশ গজে ব্যাট আর বলের লড়াই নয়। কখনো এটা দর্শনের সংঘর্ষ, কখনো দুই ভিন্ন মেজাজের গল্প। উপমহাদেশের ক্রিকেটে সেই গল্পের দুই প্রধান চরিত্র- সাকিব আল হাসান ও শহীদ আফ্রিদি। একজন দীর্ঘ সময় ধরে আধিপত্য গড়ে তোলার কারিগর। অন্যজন মুহূর্তের ঝড়ে ম্যাচের গল্প বদলে দেওয়ার শিল্পী।

বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে সাকিব আল হাসান এক বিরল অধ্যায়। তাঁর ক্যারিয়ার কেবল ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়, বরং একটি দলের আত্মবিশ্বাস হয়ে ওঠার গল্পও। ব্যাট হাতে মিডল অর্ডারে নির্ভরতার প্রতীক, বল হাতে নিখুঁত নিয়ন্ত্রণ- এই দুইয়ের মিশ্রণে তিনি হয়ে উঠেছিলেন আধুনিক ক্রিকেটের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার।

একটা সময় ছিল, যখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অলরাউন্ডারদের তালিকা মানেই শীর্ষে সাকিব আল হাসানের নাম। টেস্ট, ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি- তিন ফরম্যাটেই দীর্ঘ সময় ধরে সেই অবস্থান ধরে রাখা নিছক কাকতালীয় নয়। এটি ধারাবাহিকতা, পরিশ্রম আর ক্রিকেট বোধের ফল।

অন্যদিকে শহীদ আফ্রিদি যেন ক্রিকেট মাঠের এক বিস্ময়। তাঁর ব্যাটিংকে কখনো প্রচলিত অর্থে ব্যাখ্যা করা যায় না। প্রথম বলেই ছক্কা মারার পাগলামি, কিংবা কয়েক ওভারের মধ্যেই ম্যাচের গতি বদলে দেওয়া- এই দুঃসাহসই তাঁকে আলাদা করেছে। ক্রিকেট দুনিয়া তাঁকে তাই মনে রেখেছে ‘বুম বুম’ নামে।

পরিসংখ্যানের খাতায় সাকিব আল হাসান এগিয়ে- রান, উইকেট, ধারাবাহিক পারফরম্যান্স সবখানেই। কিন্তু আফ্রিদির গল্পটা সংখ্যার বেড়াজালে আটকে রাখা যায় না। তাঁর ক্রিকেটের সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে মুহূর্তে। সেই সব মুহূর্তে, যখন কয়েকটি আক্রমণাত্মক শট পুরো ম্যাচের আবহ বদলে দিত।

সাকিব আল হাসান ছিলেন ভীষণ কৌশলি। পরিস্থিতি বুঝে ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতায় ছিল তাঁর। ব্যাটিং হোক কিংবা বোলিং- প্রতিটি সিদ্ধান্তে যেন ছিল হিসেবি, তার মস্তিষ্কে ছিল হিমশীতল স্থিরতা। আর আফ্রিদি ছিলেন আবেগের তাড়নায় ছুটে চলা এক অবাধ্য সাহস। তিনি খেলতেন দর্শকদের হৃদস্পন্দনের তালে তাল মিলিয়ে। কখনো অবিশ্বাস্য সাফল্য, কখনো হঠাৎ পতন- কিন্তু প্রতিবারই বাইশ গজে মঞ্চস্থ করেছেন রোমাঞ্চকর নাটক।

সাকিব ও আফ্রিদি- এই দুইজনের তুলনা শেষ পর্যন্ত দুই ক্রিকেটারের নয়, দুই দর্শনের। সাকিব আল হাসান প্রমাণ করেছেন ধারাবাহিকতা দিয়েও কিংবদন্তি হওয়া যায়। শহীদ আফ্রিদি দেখিয়েছেন, দুঃসাহস দিয়েও ইতিহাস লেখা যায়। কিংবদন্তিদের তুলনায় হয় না। হয় বন্দনা, হয় প্রশংসা, সেই সাথে হয় আক্ষেপ- আরেকটু থেকেই গেলেই তো হতো!

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link