গ্রিন হাউজের মায়া ভুলেছে বিসিবি

মিরপুরের একাডেমি মাঠে দাঁড়িয়ে থাকা এই কাঠামোটাকে দেখলে একসময় মনে হতো—বাংলাদেশ ক্রিকেট বুঝি নতুন এক অধ্যায়ে পা রাখতে যাচ্ছে। বর্ষার ভেজা দিনেও অনুশীলন থামবে না, ক্রিকেটাররা ব্যাট-বল হাতে ছুটে বেড়াবেন এক আধুনিক সুবিধার ভেতর। অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের আদলে তৈরি হওয়া সেই ‘গ্রিন হাউজ’ যেন ছিল ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি।

মিরপুরের একাডেমি মাঠে দাঁড়িয়ে থাকা এই কাঠামোটাকে দেখলে একসময় মনে হতো—বাংলাদেশ ক্রিকেট বুঝি নতুন এক অধ্যায়ে পা রাখতে যাচ্ছে। বর্ষার ভেজা দিনেও অনুশীলন থামবে না, ক্রিকেটাররা ব্যাট-বল হাতে ছুটে বেড়াবেন এক আধুনিক সুবিধার ভেতর। অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের আদলে তৈরি হওয়া সেই ‘গ্রিন হাউজ’ যেন ছিল ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি।

কিন্তু বাস্তবতা অনেক সময় স্বপ্নের চেয়ে আলাদা হয়। ২০২৩ সালে প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি হওয়া এই গ্রিন হাউজ—দুই কি তিন বছর পার হলেও একদিনের জন্যও কাজে লাগেনি। স্টিলের কাঠামো, প্লাস্টিকে মোড়া কভার—সবই ছিল পরিকল্পনায়। কিন্তু বাংলাদেশের আর্দ্র, গরম আবহাওয়ার সঙ্গে এই ধারণার কোনো মিল ছিল না। ইট-সিমেন্টের ইনডোর না হওয়ায় ভেতরে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা যায়নি। ফলে ভেতরে তৈরি হয় অসহনীয় ভ্যাপসা গরম, যেখানে দাঁড়িয়ে থাকাই কষ্টকর—অনুশীলন তো দূরের কথা।

একটা সময় যে জায়গাটাকে ঘিরে এত প্রত্যাশা ছিল, সেটাই এখন পরিণত হয়েছে এক অচল কাঠামোয়। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—এটি সরিয়ে ফেলা হবে। বিসিবির ফ্যাসিলিটিজ বিভাগ ভুল পরিকল্পনার দায় স্বীকার করেছে। বাংলাদেশের বাস্তবতায় এই ধরনের কাঠামো কার্যকর হয়নি, বরং জায়গা নষ্ট করেছে। ক্রিকেটারদের কোনো উপকারেই আসেনি বলে এটিকে আর টিকিয়ে রাখার যৌক্তিকতা নেই।

এই গ্রিন হাউজের ধারণা এসেছিল ভিনদেশি মডেল দেখে। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে বর্ষা বা প্রতিকূল আবহাওয়ায় ক্রিকেটাররা এমন কাভার্ড সুবিধায় অনুশীলন করেন। সেই অনুপ্রেরণাতেই আগের বোর্ড এটি তৈরি করেছিল। কিন্তু যে বিষয়টা চোখ এড়িয়ে গিয়েছিল, তা হলো—একই কাঠামো সব জায়গায় কাজ করে না। পরিবেশ, আবহাওয়া, বাস্তবতা—সবকিছুর সঙ্গে মানানসই না হলে পরিকল্পনা কাগজেই সুন্দর থাকে, মাঠে নয়।

তবে, বিসিবির নতুন ভাবনা আছে। গ্রিন হাউজ সরিয়ে একাডেমি মাঠের পশ্চিম অংশে তৈরি করা হবে ৩৭টি পিচ। কংক্রিট, টার্ফ, কালো মাটি, বাউন্সি, স্পিন—বিভিন্ন ধরনের উইকেট তৈরি করে ক্রিকেটারদের দেওয়া হবে বহুমাত্রিক অনুশীলনের সুযোগ। যেন তারা শুধু একটি নয়, বিভিন্ন কন্ডিশনে নিজেদের প্রস্তুত করতে পারেন।

নেপালে সাকিব-মাহেদীর অম্লমধুর শুরু

একজনের শুরুটা হয়েছিল প্রায় বিদায়ের দুয়ারে দাঁড়িয়ে, অন্যজনের ব্যাটে জমেনি প্রত্যাশার রং। অথচ দিনের শেষে দুজনেরই নাম উঠল পারফরম্যান্সের খাতায়। শেখ মেহেদী হাসান ব্যাট হাতে ২১ বলে ৩২ রানের ঝোড়ো ইনিংসে হিমালয়ের দেশ কাঁপালেন, আর সাকিব আল হাসান বল হাতে চার ওভারে ২৪ রান দিয়ে তুলে নিলেন একটি উইকেট। নেপাল প্রিমিয়ার লিগে পোখারা অ্যাভেঞ্জার্সের জার্সিতে বাংলাদেশের দুই অলরাউন্ডারের অভিষেকটা হলো এমনই! তবে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের এই প্রাপ্তি শেষ পর্যন্ত ম্লান হলো দলের পরাজয়ে। ১৪৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ১৬.৫ ওভারেই জয় নিশ্চিত করে প্রতিপক্ষ সুদূর পশ্চিম রয়্যালস, জিতল ৬ উইকেটে।

Share via
Copy link