আপনার হাতে প্রতিপক্ষকে আটকানোর মতো যথেষ্ট রসদ নেই। মন্থর উইকেটে আগে ব্যাট করে সংগ্রহের খাতায় আপনার সংখ্যাটা মাত্র ১০০। এমন উইকেট আর পরিস্থিতির সামনে দলে থাকা মুস্তাফিজুর রহমানের মতো বোলারকে ছয় ওভার শেষে যদি আনা হয়, সেক্ষেত্রে একটা কথায় আপনার জন্য প্রযোজ্য—এই ম্যাচ আপনি জিততে চাননি।
করাচি স্টেডিয়ামের উইকেট যেন ব্যাটারদের থেকে রীতিমতো মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। বিশেষ করে স্পিনারদের জন্য খুলে দিয়েছে এক সম্ভাবনার দরজা। যেখান দিয়ে ঢুকে ছড়ি ঘুরিয়েছেন ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের বোলাররা।
লাহোর কালান্দার্সের ব্যাটিং লাইনআপ রীতিমতো মুখ থুবড়ে পড়েছে। গুটিয়ে গেছে ১০০ রানেই। প্রতিপক্ষকে এর মধ্যে বেঁধে ফেলতে হলে অবিশ্বাস্য কিছু করতে হতো। তবে শাহীন আফ্রিদি মুখস্থ বুলি আওড়ে গেলেন। উইকেট বা পরিস্থিতির বিবেচনা করেই বোলিং আক্রমণ সাজিয়ে গেলেন।

এই ধরনের উইকেটে স্পিনারদের দখলদারিত্ব বেশি। লাহোর নিজেই ব্যাট হাতে টের পেয়েছে। সেখানে লাহোরের আক্রমণ সাজানো হলো পেসার দিয়ে। শাহীন-হারিসরা দেদারসে রান বিলিয়ে ম্যাচটাকে শুরুতেই হাতছাড়া করে ফেলে। প্রশ্ন আসতে পারে, মুস্তাফিজ তো স্পিনার নন, তবে তাঁর প্রসঙ্গ এখানে কেন?
সাধারণত মন্থর উইকেট, যেখানে স্পিনারদের টার্ন করাতে সুবিধা হয়, মুস্তাফিজ সেখানে বরাবরই ভয়ঙ্কর এক নাম। স্লোয়ার, কাটার আর গতির নিদারুণ তারতম্য ব্যাটারদের জন্য এক বিভীষিকা হয়ে আসে। লাহোর ভুল করেছে এখানেই। মুস্তাফিজকে ডেকেছে ছয় ওভার শেষ করে। ততক্ষণে ৫১ রান তুলে ফেলেছে ইসলামাবাদ, হাতে তখনও নয় উইকেট। এরপর কি আর ম্যাচের কিছু বাকি থাকে?
দিনশেষে মুস্তাফিজ দুই ওভার হাত ঘুরিয়েছেন বটে, উইকেট না পেলেও রান দিয়েছেন ১৬। অবশ্য এর বেশি কি আর করার ছিল তাঁর। লাহোর ম্যাচ হেরেছে ৫৮ বল আর নয় উইকেটের বিশাল ব্যবধানে। অবশ্য জিততে না চাওয়া দলটার এমন শোচনীয় পরাজয় স্বাভাবিক বইকি।












