আঘাত করলে যে প্রত্যাঘাত সইতে হয়, শাহীন শাহ আফ্রিদিকে তা হাড়ে হাড়ে বুঝিয়ে দিলেন নাহিদ রানা। ক্রিকেট মাঠে গতির লড়াই তো হরহামেশাই হয়। কিন্তু সেই লড়াই যখন ব্যক্তিগত ইগো আর দাপটের দ্বৈরথে রূপ নেয়, তখন তা বাড়তি উত্তাপ ছড়ায়।
বাংলাদেশের ব্যাটিং চলাকালীন ক্রিজে থাকা নাহিদ রানাকে লক্ষ্য করে একটি বিধ্বংসী বাউন্সার ছোঁড়েন শাহীন। সেই ডেলিভারিটি এতটাই ভয়ানক ছিল যে তা সবার নজর কেড়ে নেয় এবং তরুণ রানাকে কিছুটা অপ্রস্তুত করে ফেলে।
তবে নাহিদ রানা যে দমে যাওয়ার পাত্র নন, তার প্রমাণ মিলল ঠিক পরের ইনিংসেই। শাহীন শাহ আফ্রিদি যখন ব্যাটিংয়ে এলেন, তখন রানা তার সেই আগুনের গোলার মতো গতিকে ব্যবহার করলেন পাল্টা জবাব দিতে।

নাহিদ রানার করা একটি ব্রুটাল এবং আনপ্লেয়েবল বাউন্সারে রীতিমতো ভড়কে যান শাহীন। বলের গতি আর বাউন্স সামলাতে না পেরে ক্রিজে রীতিমতো অসহায় আত্মসমর্পণ করতে দেখা যায় এই পাকিস্তানি পেসারকে।
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও এই দ্বৈরথ নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘আপনি যদি নাহিদ রানাকে বাউন্সার মারেন, তবে আপনাকেও তার কাছ থেকে বাউন্সার খাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।’ মানে ইটের জবাব পাটকেলেই খেতে হবে।
প্রথম ইনিংসের আক্ষেপ দ্বিতীয় ইনিংসেই মিটিয়েছেন নাহিদ। গতির ঝড়ে নিজের নামের প্রতি সুবিচার করলেন তিনি। তুলে নিলেন টেস্ট ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফাইফারও।

নাহিদ রানার এই পাল্টা আঘাত কেবল একটি বাউন্সারের জবাব ছিল না, এটি ছিল বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের বদলে যাওয়া মানসিকতার প্রতিচ্ছবি। একসময় প্রতিপক্ষের স্লেজিং কিংবা গতির মুখে বাংলাদেশ গুটিয়ে থাকত। কিন্তু রানার এই ‘রিটার্ন গিফট’ প্রমাণ করে দিয়েছে যে এখনকার টাইগারা আঘাত পেলে পিছু হটে না, বরং দ্বিগুণ তেজে ঝাঁপিয়ে পড়ে।











