২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে বাংলাদেশ অধ্যায়টি এখন কেবলই এক বিষাদময় স্মৃতি। ২২ গজে নামার আগেই মাঠের বাইরের রাজনীতিতে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের ছিটকে যাওয়া ক্রিকেটের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা। মুস্তাফিজুর রহমানকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া সেই বিতর্ক শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে বিশ্বকাপের মানচিত্র থেকেই মুছে দিয়েছিল। যদিও চাইলেও সেই বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারতো লিটন দাসের দল।
টাইগারদের এই বিশ্বকাপ থেকে বঞ্চিত হওয়ার নেপথ্যে ছিল তৎকালীন বিসিবি প্রশাসনের একরোখা সিদ্ধান্ত। কলকাতার ইডেনে ধর্মীয় উত্তজনা আর নিরাপত্তার অজুহাতে তারা পুরো ভেন্যু পরিবর্তনের দাবি তুলেছিল। কিন্তু আইসিসি সেই দাবিতে সায় না দিলে এক প্রকার অভিমান করেই টুর্নামেন্ট থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় বাংলাদেশ। এই ঘটনাটি ক্রিকেট বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি যেমন ক্ষুন্ন করেছে, তেমনি বঞ্চিত করেছে একঝাঁক প্রতিভাবান ক্রিকেটারকে।
সম্প্রতি বিসিবির অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন তামিম ইকবাল। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই ক্ষত নিয়ে নিজের মনের চাপা ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তামিম বলেন, ‘বিশ্বকাপের ইস্যুতে প্রথম আমিই সোচ্চার হয়েছিলাম। আগের বোর্ড প্রশাসন যেভাবে বিষয়টি সামলেছে, তা মোটেও সঠিক ছিল না। আইসিসি বেশ নমনীয় ছিল, আলোচনার মাধ্যমে সমাধান সম্ভব ছিল। কিন্তু আমরা তা করতে পারিনি।’

নিজের দেশের ক্রিকেটের লড়াইয়ের ইতিহাস মনে করিয়ে দিয়ে তামিম আরও আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, ‘৯৬-৯৭ সালের দিকে ফিরলে দেখা যায়, কেনিয়ার বিপক্ষে সেই আইসিসি ট্রফি জেতার জন্য আমরা কতটা লড়াই করেছি। জয়ের পর মানুষ রাস্তায় নেমে উৎসব করেছিল। সেই জয় দেখেই একটি প্রজন্ম ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিল। অথচ আমরা কোনো কার্যকর আলোচনা ছাড়াই একটা বিশ্বকাপ হাতছাড়া করলাম। হয়তো এই দলে এমন অনেকে ছিল যাদের আর কখনোই বিশ্বকাপে খেলা হবে না। এটা আমি মেনে নিতে পারিনি।’
মাঠের বাইরের সেই তিক্ততা কাটিয়ে এখন নতুন সূর্যোদয়ের অপেক্ষায় দেশের ক্রিকেট। বিসিসিআই সভাপতি মিঠুন মানহাসের সঙ্গে নিজের পুরনো বন্ধুত্বের কথা উল্লেখ করে তামিম সম্পর্কের বরফ গলানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার ক্রিকেটীয় সম্পর্ক আবারও আগের উচ্চতায় ফিরবে। তামিমের ভাষায়, ‘বিসিসিআই সভাপতি মিঠুন মানহাসের সাথে আমি আইপিএলে এক দলে খেলেছি, তাঁর সঙ্গে আমার সম্পর্ক চমৎকার।’
বর্তমানে বাংলাদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ক্রিকেট বিশ্বকে আশ্বস্ত করেছেন তামিম। তিনি মনে করেন, ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সিরিজই হতে পারে সব তিক্ততা ভোলার শ্রেষ্ঠ উপায়। তিনি বলেন, ‘দেশের নিরাপত্তা এখন একদম নিখুঁত। ভারতীয় দলের জন্য এখানে কখনোই কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি ছিল না। যখন ভারত এখানে খেলে, স্টেডিয়াম দর্শকে ঠাসা থাকে। মানুষ এই লড়াই ভালোবাসে। আমার মনে হয় না বিসিবি ও বিসিসিআইয়ের মধ্যে এখন আর কোনো সমস্যা আছে।’

২০২৬ বিশ্বকাপের সেই আক্ষেপ হয়তো কোনোদিন মুছবে না, কিন্তু তামিম ইকবালের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ক্রিকেট এখন ঘুরে দাঁড়াতে চায়। জেদ আর অভিমানে যে মর্যাদা ধুলোয় মিশেছিল, তা আবারও ২২ গজের লড়াই দিয়েই ফিরে পাওয়ার স্বপ্ন দেখছে কোটি টাইগার ভক্ত। আক্ষেপের ধূসর পাতা উল্টে এবার নতুন এক গল্পের সূচনা করতে চায় বাংলাদেশ।










