রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে লা লিগার শিরোপা জেতা। বার্সেলোনার কাছে এর চাইতে সুমধুর আর কী হতে পারে! বাবার মৃত্যু সংবাদ পেয়েও দলকে ছেড়ে যাননি হ্যান্সি ফ্লিক। আর গুরুর সেই ত্যাগের প্রতিদান বার্সেলোনা দিল রাজকীয় ঢঙে। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদকে ২-০ গোলে বিধ্বস্ত করে তিন ম্যাচ হাতে থাকতেই ২৯তম লা লিগা শিরোপা ঘরে তুলল কাতালানরা।
ম্যাচ শুরুর বাঁশি বাজার পর থেকেই বার্সার ফুটবলারদের চোখেমুখে ছিল ভিন্ন এক ক্ষিপ্রতা। নবম মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে মার্কাস রাশফোর্ড যখন সেই জাদুকরী ফ্রি-কিকটি নিলেন, রিয়াল গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়ার ডাইভ দেওয়া ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না। টপ কর্নার দিয়ে বল জালে জড়াতেই উৎসবের শুরু।
সেই রেশ কাটতে না কাটতেই ১৮ মিনিটে রিয়াল রক্ষণভাগকে চুরমার করে দেন ফেরান তোরেস। দানি ওলমোর এক চতুর ব্যাকহিল পাসে বল পেয়ে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ব্যবধান ২-০ করেন তিনি। প্রথমার্ধেই দুই গোল হজম করে কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় আলভারো আরবেলোয়ার দল।

দ্বিতীয়ার্ধে জুড বেলিংহ্যাম ও ভিনিসিয়াস জুনিয়ররা ম্যাচে ফেরার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছেন। বেলিংহ্যাম একবার বল জালে জড়ালেও অফসাইডের ফাঁদে পড়ে গোলটি বাতিল হয়। অন্যদিকে ভিনিসিয়াসের বেশ কিছু শট রুখে দিয়ে বার্সার লিড আগলে রাখেন গোলরক্ষক জোয়ান গার্সিয়া।
খেলার উত্তাপ কেবল স্কিল নয়, ছড়িয়েছে স্নায়ুর লড়াইয়েও। ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নল্ড এবং রাফিনহার মধ্যে হাতাহাতি থেকে শুরু করে কার্ডের ছড়াছড়ি। রেফারিকে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়েছে পরিস্থিতি সামলাতে।
রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সাথে সাথে ন্যু ক্যাম্প মেতে ওঠে বর্ণিল উৎসবে। রিয়ালকে স্রেফ দর্শক বানিয়ে তাদের চোখের সামনেই শিরোপা উদযাপনে মেতে ওঠে কাতালানরা। দু:সময় কাটিয়ে ব্যাক টু ব্যাক টাইটেল জেতার এই স্মৃতি ফুটবল ইতিহাসে বার্সেলোনার শ্রেষ্ঠত্বের এক অনন্য দলিল হয়ে থাকবে।












