পাগলাটে এমিলিয়ানো মার্টিনেজের ক্যারিয়ার চোখের জলেই থেমে যাচ্ছে। ১১ সেভের বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষেই তিনি জাতীয় দলকে বিদায় জানানোর কথা ভাবছেন।
অথচ, বছর চারেক আগের চিত্রটা ছিল ভিন্ন। ফাইনালে অসাধারণ সেভ, টাইব্রেকারের জয়, তারপর হাতে গোল্ডেন গ্লাভস নিয়ে বিশ্বকাপ উদযাপন—সবকিছু মিলিয়ে দিবু মার্টিনেজ হয়ে উঠেছিলেন আর্জেন্টিনার অমর নায়ক।
কিন্তু চার বছর পর ছবিটা একেবারেই ভিন্ন। নিউ জার্সির ফাইনালে স্পেনের কাছে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপ ধরে রাখার স্বপ্ন ভেঙে গেছে লিওনেল স্কালোনির দলের। শেষ বাঁশি বাজতেই চোখের জল লুকাতে পারেননি এমি মার্তিনেজ। তবে সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে ম্যাচের পর তার নিজের কথাতেই।

ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক লিখেছেন, তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন আবারও বিশ্বকাপ জিতে ট্রফিটা আর্জেন্টিনায় ফিরিয়ে নেওয়ার, ইতিহাস গড়ার। কিন্তু সেই স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার যন্ত্রণা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। এখন অনেক কিছু নিয়ে ভাবার সময় এসেছে। সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ কী হবে, আর জাতীয় দলের হয়ে সরে দাঁড়ানোর সময় কি এসে গেছে—সেটাও ভেবে দেখতে হবে। দেশের জন্য নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এই কয়েকটি লাইনই আর্জেন্টিনার সমর্থকদের মনে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। তবে কি জাতীয় দলের জার্সিতে এমি মার্টিনেজকে শেষবারের মতো দেখা হয়ে গেল?
ফাইনালে হারের দায় তার কাঁধে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বরং ম্যাচজুড়ে একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করে স্পেনকে বহুবার হতাশ করেছেন তিনি। অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলটি ঠেকানোর সুযোগও ছিল না। শেষ পর্যন্ত তার অনন্য পারফরম্যান্সও আর্জেন্টিনাকে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জেতাতে পারেনি।

এখন সিদ্ধান্ত পুরোপুরি এমিলিয়ানো মার্তিনেজের। ৩৩ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক কি জাতীয় দলকে বিদায় জানিয়ে ক্লাব ক্যারিয়ারেই পুরো মনোযোগ দেবেন, নাকি বিশ্বকাপ ফাইনালের এই বেদনা ভুলে আরও একটি অধ্যায়ের জন্য ফিরবেন? বাস্তবতা বলছে, মার্টিনেজের পক্ষে আরও একটা বিশ্বকাপ খেলা সম্ভব নয়, তাই বিদায় নেওয়াকেই সঠিক সিদ্ধান্ত মনে করছেন তিনি।










