ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টি কন্টিনেন্ট কাপ শুরুর আগেই বিতর্কে জড়িয়ে গেল। এশিয়া ওয়ারিয়র্স দলে শিখর ধাওয়ানের নাম ঘোষণা করেছিলেন আয়োজকেরা, অথচ ধাওয়ান জানিয়ে দিলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। এমনকি আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলেছেন ভারতের সাবেক এই খেলোয়াড়।
ঘোষণার সময় এশিয়া ওয়ারিয়র্সকে সাজানো হয়েছিল বেশ নামীদামি ক্রিকেটারদের দিয়ে। ধাওয়ানের সঙ্গে ছিলেন পাকিস্তানের ইফতিখার আহমেদ ও সোহেল তানভীর, ভারতের সাবেক স্পিনার রাহুল শর্মা, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ডোয়াইন স্মিথ। আর বাংলাদেশ থেকে ছিলেন তিনজন, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, রুবেল হোসেন ও ইমরুল কায়েস। ধাওয়ান সরে যাওয়ায় এই তিনজনের নামই এখন বাংলাদেশি ভক্তদের কাছে বাড়তি আগ্রহের।
মঙ্গলবার এক্সে (সাবেক টুইটার) ধাওয়ান লিখেছেন, “বিশ্ব টি-টোয়েন্টি কন্টিনেন্ট কাপের অংশগ্রহণকারী হিসেবে আমার নাম দেখতে পেয়েছি। আয়োজকেরা আমার অজান্তে ও বিনা অনুমতিতে আমার নাম ব্যবহার করেছে, আর আমার টিম এ বিষয়ে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে।” পোস্টের শেষে তিনি গণমাধ্যম ও ভক্তদের কাছে অনুরোধ রেখেছেন, “আমি গণমাধ্যম ও আমার ভক্তদের অনুরোধ করছি, কোনো অননুমোদিত ঘোষণা প্রকাশ করবেন না বা তাতে ভরসাও করবেন না। আপনাদের নিরন্তর ভালোবাসা ও সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ।”

ধাওয়ানের পোস্টের পর আয়োজকেরাও বিবৃতি দিয়েছেন। সেখানে জানানো হয়েছে, এশিয়া ওয়ারিয়র্সের স্কোয়াডে থাকছেন না তিনি। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে সময়সূচির জটিলতা ও কিছু কারিগরি বিবেচনা। তবে ধাওয়ানের নাম আদৌ কীভাবে তালিকায় উঠল, সে প্রশ্নের কোনো উত্তর বিবৃতিতে নেই। ফলে দলঘোষণা নিয়েই এখন সন্দেহ দানা বাঁধছে।
ধাওয়ান ২০২৪ সালেই আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন। ভারতের হয়ে খেলেছেন ৩৪ টেস্ট, ১৬৭ ওয়ানডে ও ৬৮ টি-টোয়েন্টি। ২০১৩ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জয়ে তাঁর ভূমিকা ছিল বড়। এমন একজনের নাম অনুমতি ছাড়া ব্যবহারের অভিযোগ আয়োজকদের জন্য সহজ ব্যাপার হবে না।
ধাওয়ানের নাম মুছে ফেললেও বাংলাদেশের তিন ক্রিকেটার এখনো এই দলের তালিকায় আছেন। মাহমুদউল্লাহ, রুবেল আর ইমরুলকে একসঙ্গে দেখা বাংলাদেশের ভক্তদের কাছে নতুন কিছু নয়। সম্প্রতি ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অব লিজেন্ডসে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নস দলের হয়ে তিনজনই খেলেছেন একসঙ্গে। এর আগে ২০১৫ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বাংলাদেশের প্রথমবার কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার ম্যাচেও তিনজন ছিলেন একই একাদশে। সেদিন মাহমুদউল্লাহ করেছিলেন দেশের হয়ে বিশ্বকাপের প্রথম সেঞ্চুরি, আর বল হাতে ৫৩ রানে ৪ উইকেট নিয়েছিলেন রুবেল। এবার আবারও একই তালিকায় তিনজনের নাম, তবে আয়োজকদের ঘোষণা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তার উত্তর না মেলা পর্যন্ত টুর্নামেন্টের চেহারা কেমন হবে, তা নিয়ে কৌতূহল থাকছেই।











