শুরুতেই একটা প্রশ্ন করা যাক, একটা দেশের ডমেস্টিক লিগ কি ইয়াং ট্যালেন্ট তৈরির ফ্যাক্টরি, নাকি বুড়ো ক্রিকেটারদের রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার? ডি থ্রি ট্রফির অকশানের পর প্রশ্নটা ওঠা স্বাভাবিক। জাতীয় দলের রাডারে নেই, আর কখনোই লাল-সবুজের জার্সি চাপানো হবে না গায়ে, এমন বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার দল পেয়েছেন।
অথচ, প্রীতম কুমার, আশিকুর রহমান শিবলী, নাঈম আহমেদ, মিম মোসাদ্দেক, আবদুল্লাহ আল মামুন ও আইচ মোল্লার মতো একঝাঁক তরুণ প্রতিভা থেকে গেছেন আনসোল্ড! যারা পারফর্ম করছেন চলমান এনসিএলেও। দল পাননি ওয়াসি সিদ্দিকীর মতো সম্ভাবনাময় লেগ স্পিনারও! তাহলে ফিউচার স্টার তৈরি হবে কীভাবে, যদি নিজেদের প্রুভ করার প্ল্যাটফর্মেই তাদের জায়গা না হয়?
জাতীয় দল থেকে অবসর নেওয়া মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ দল পেয়েছেন। লিজেন্ডস লিগেই তার সতীর্থ রনি তালুকদার, ফজলে মাহমুদ রাব্বি, জিয়াউর রহমানরা দল পেয়েছেন। দল পেয়েছেন শুভাগত হোমও! অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের দল পাওয়া নিয়ে আপত্তি তোলার কিছু নেই। অভিজ্ঞতার মূল্য আছে, পারফরম্যান্সেরও মূল্য আছে। বয়স বেশি হলেই কাউকে বাদ দিতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, তরুণদের পারফরম্যান্স আর সম্ভাবনাকে কতটা গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে?

একটা ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে প্রতিটি দলই জিততে চাইবে। মালিকরা টাকা ইনভেস্ট করবেন, ভালো দল গড়বেন এক্সপেরিয়েন্স ক্যাম্পেইনারদের নিয়ে, ট্রফি জয়ের চেষ্টা করবেন। এটাই বরং স্বাভাবিক। কিন্তু সেই হিসাবের বাইরে তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাববে কে?
জাতীয় দলে জায়গা পাওয়ার আগে একজন ক্রিকেটারকে অনেক পথ পাড়ি দিতে হয়। নিয়মিত ম্যাচ খেলা, চাপ সামলানো, কঠিন পরিস্থিতিতে পারফর্ম করা, নিজের ভুল থেকে শেখা, সবকিছুর জন্যই প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট প্রয়োজন। সেই সুযোগগুলোই যদি না পান তাঁরা, তাহলে আন্তর্জাতিক মঞ্চে গিয়ে ভরাডুবি হওয়াটাই যেন প্রাপ্ত!
ডমেস্টি থ্রি টুর্নামেন্টটির প্রথম আসর এবার। দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করার দায়িত্ব বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের। বিসিবি চাইলে এমন কিছু নীতিমালা বিবেচনা করতে পারে, যাতে দল গঠনে অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তরুণদের জন্যও পর্যাপ্ত সুযোগ থাকে। দুদর্শিতা দেখানোর জায়গা আছে অনেক।

ডি থ্রি ট্রফির মতো নতুন একটা টুর্নামেন্ট থেকে নতুন ক্রিকেটার উঠে আসবে, নিজেদের প্রমাণ করবে, ভবিষ্যতে জাতীয় দলের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করবে, এটাই প্রত্যাশা। ডি থ্রি ট্রফি কি সেই সুযোগ তৈরি করবে, নাকি পরিচিত নামের ভিড়ে হারিয়ে যাবে আগামী দিনের সম্ভাবনাগুলো? সেটাই এখন কোটি টাকার প্রশ্ন!











