১১০ রানে অলআউট পাকিস্তান! কে বলবে, এই দলটাই আগের ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তুলে নিয়েছিল অবিশ্বাস্য এক জয়? কে বলবে, এই দলটাই সবার আগে নিশ্চিত করেছে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল? পাকিস্তানকে যে আর সাধে ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ বলা হয় না! কখন যে রঙ বদলে ফেলে, তা বোঝা সত্যিই কঠিন!
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আগের ম্যাচেই ২৪২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে চরম বিপর্যয়ে পড়েছিল পাকিস্তান। মাত্র ১৫৪ রানেই হারিয়েছিল ৯ উইকেট। সেখান থেকে ম্যাচটা প্রায় হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু শাদাব খানের অবিশ্বাস্য ব্যাটিংয়ে খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে রোমাঞ্চকর এক জয় তুলে নেয় দলটি।
অথচ সেই পাকিস্তানই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পরের ম্যাচে ব্যাট হাতে পুরোপুরি ব্যর্থ! লঙ্কান বোলারদের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি তারা। গুটিয়ে গেছে মাত্র ১১০ রানে। বল হাতে শ্রীলঙ্কার হয়ে ক্যারিয়ারসেরা ওয়ানডে স্পেল উপহার দিয়েছেন দিলশান মাদুশঙ্কা। তুলে নিয়েছেন ৫ উইকেট!

জবাব দিতে নেমে শ্রীলঙ্কা বুঝিয়ে দিয়েছে, এই লক্ষ্য তাদের জন্য কতটা সহজ! মাত্র ১৮.১ ওভারেই ১১১ রানের লক্ষ্য পেরিয়ে যায় লঙ্কানরা। জয়টা ৮ উইকেটের, আর তাতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন কামিন্দু মেন্ডিস। তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ৬০ বলে অপরাজিত ৬২ রান, যেখানে ছিল ৮টি চার ও ২টি ছক্কার মার।
অন্য প্রান্তে দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন পাভান রত্নায়েকে। ২৬ বলে অপরাজিত ২৩ রান করে কামিন্দুর সঙ্গে জয় নিয়েই মাঠ ছেড়েছেন তিনি। আগের ম্যাচে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের নায়ক পাকিস্তান, পরের ম্যাচেই ব্যাটিং বিপর্যয়ের শিকার! এ যেন পাকিস্তান ক্রিকেটের চিরচেনা দুই বিপরীত রূপ।
তবে এই জয়-পরাজয়ের হিসাব আপাতত পেছনে রেখে সামনে তাকাতে হচ্ছে দুই দলকে। চলমান ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার বাকি ম্যাচটি তাই আপাতত নিয়মরক্ষার লড়াই। এবার দেখার বিষয়, ফাইনালের মঞ্চে পাকিস্তান ফিরবে কি না নিজেদের চেনা ছন্দে, নাকি শ্রীলঙ্কাই ধরে রাখবে এই জয়ের আত্মবিশ্বাস!











