ম্যাচ জেতানোর সক্ষমতা আছে তানজিদ হাসান তামিম আর লিটন কুমার দাসের, খেলার মোমেন্ট ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন মুশফিকুর রহিম আর নাজমুল হোসেন শান্ত। সাদমান ইসলামের মধ্যে সেই ঝা-চকচকে ব্যাপারটা হয়ত অনুপস্থিত।
তাঁর টিকে থাকার পথ একটাই, রান করা, আর রান করেই দলে থাকার লড়াইটা চালিয়ে যেতে হয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টের প্রথম দিনে সেই লড়াইটাই করে যাচ্ছেন তিনি, ৯৯ রানে অপরাজিত আছেন।
বয়স তাঁর পক্ষে নেই, টেকনিক নিয়েও প্রশ্ন আছে, আর ধারাবাহিকতার ঘাটতি তো তাঁর ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যানেই লেখা। তাই দলের ব্যাটিং ভেঙে পড়লে সমালোচনার তালিকায় সবার আগে তাঁর নামটাই আসে। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি এর জবাব দিচ্ছেন ব্যাট হাতেই। আফগানিস্তানের বিপক্ষেও ফিফটি প্লাস স্কোর করেছেন, আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টেও সেই ধারা ধরে রেখেছেন।

লিটন বা তানজিদের ব্যাটিং নিয়ে বলা হয় ঝলমলে, দৃষ্টিনন্দন খেলার কথা, আর সাদমানের নামের পাশে বসে লড়াকু মানসিকতা আর দৃঢ়তা। কিন্তু ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের তীব্র উত্তাপের মধ্যে, ধীরগতির উইকেটে যেখানে ব্যাটে বল ঠিকমতো আসে না, সেখানে ক্রিজে টিকে থাকার এই গুণটাও দলের সমান দরকার।
বুধবার মিরপুরের ইনিংসটা সেটারই উদাহরণ। জেইডন সিলস আর শামার জোসেফের নতুন বলের সামনে প্রথম ১৮ বলে করেছিলেন মাত্র ১ রান, কয়েকবার বল ব্যাটের কানা ঘেঁষে বেরিয়ে গেছে। তানজিদ, মুমিনুল আর শান্ত একে একে ফেরার পর ইনিংসের ভার এসে পড়ল তাঁর ওপর। তাওহীদ হৃদয়ের সঙ্গে তিনি জুটিতে যোগ করলেন ৮০–র বেশি রান, হৃদয় পায়ের ব্যথায় অবসর নেওয়ার পর লিটনকে নিয়ে খেলা এগিয়ে নিলেন। রোস্টন চেজ, জোমেল ওয়ারিকান আর অভিষিক্ত জশুয়া বিশপের স্পিনের সামনে বেশির ভাগ রান এসেছে আলগা বলে, বাকি সময় তিনি ডিফেন্স আর লিভের ওপর ভরসা রেখেছেন। বাংলাদেশের অন্য ব্যাটাররা যে ধরনের শটে উইকেট দিয়ে এসেছেন, সেদিকে তিনি যাননি।
৭৪ ওভারে ৩ উইকেটে ২১৩ রানে প্রথম দিন শেষ করেছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয়বার আলো কমে যাওয়ার পর খেলা আর মাঠে গড়ায়নি। সাদমান ২১৯ বলে ১০ চারে অপরাজিত আছেন ৯৯ রানে, তাঁর সঙ্গে ক্রিজে লিটন দাস, ১০ রানে। বৃহস্পতিবার সকালে সেঞ্চুরি পূর্ণ করতে তাঁর দরকার মাত্র একটা রান, কিন্তু আসল কাজটা তার পরের। তাওহীদ হৃদয় পায়ের ব্যথায় অবসর নিয়েছেন, মুশফিকুর রহিমও এই টেস্টে নেই, তাই দ্বিতীয় দিনে ক্রিজে টিকে থেকে ইনিংসটাকে যত বড় করা যায়, দলের জন্য ততই ভালো। সাদমানের জন্যও এটা আরেকটা সুযোগ, রান করে যে লড়াইটা তিনি চালিয়ে যাচ্ছেন, সেটাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেওয়ার।











