দিনের শুরুতেই ব্যাটারদের ভরাডুবি, স্কোরবোর্ডে প্রত্যাশামাফিক রান আসেনি। ব্যাট হাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বেশ চিন্তায় ফেলে দেয় বাংলাদেশকে। ফিল্ডারদের একের পর এক সুযোগ হাতছাড়ার খেসারত দিতে হয়েছে। শেষবেলায় ত্রাতা হয়ে আসেন তাইজুল ইসলাম। বৃষ্টির পর এক ওভারে দুই উইকেট নিয়ে ভেঙে দেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের মোমেন্টাম। কিছুটা স্বস্তি সঙ্গে নিয়েই দিনটা শেষ করেছে বাংলাদেশ।
প্রথম দিনটা নিজেদের করেই শেষ করেছিল বাংলাদেশ। তবে দ্বিতীয় দিনের শুরুটাই হলো ম্যাড়ম্যাড়ে। আগের দিন ৯৯ রান করে ফিরতে হয়েছিল সাদমান ইসলামকে। এক রানের অপেক্ষা দ্বিতীয় দিনে শেষ হলে ব্যাট উঁচিয়ে ধরেন সাদমান। তবে এরপরই ভাঙন ধরে বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে।
একপ্রান্তে লিটন দাস আশার আলো হয়ে ছিলেন, তবে অন্যপাশে আর কেউ দাঁড়াতেই পারেনি। অবশ্য এর দায় লিটনের কিছু কম নয়। টেল এন্ডারদের কাছ থেকে স্ট্রাইক নেওয়ার বদলে বরং নিজে গা বাঁচিয়ে চলে এসেছেন। ফলস্বরূপ আর কোনো জুটি গড়ে ওঠেনি। বরং প্রথম সেশনেই গুঁড়িয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। যোগ হয় মাত্র ৫৯ রান।

বড় রানের সুবাতাস প্রথম দিনে বইলেও সেটা টেনে নিয়ে যেতে পারেননি ব্যাটাররা। ২৭২ রানটা তাই যথেষ্ট নয়। বোলারদের এই বাড়তি চাপ নিয়েই খেলতে হবে। ২৯ রানে প্রথম সাফল্য পান হাসান মাহমুদ। এরপর জন ক্যাম্পবেল আর তেজনারায়ণ চন্দরপলের হাত ধরে ঘুরে দাঁড়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৯০ রান পর্যন্ত বিপর্যয় ঘটেনি আর।
লাইনচ্যুত ট্রেনের মতো খেই হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। কোনো কিছুতেই কিছু হচ্ছিল না। একের পর এক সুযোগ হাতছাড়া হচ্ছে, ক্যাচ মিসের মহড়া চলেছে। এমন দুঃসময়ে ত্রাতা হয়ে আবির্ভূত হন তাইজুল ইসলাম। এক জায়গায় ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বল করে যাওয়া, ব্যাটারদের সঙ্গে মাইন্ডগেম খেলা, এরপরই ধরা দেয় সাফল্য। ইনিংসের ৩৬তম ওভারে এসে দুই উইকেট শিকার করেন তাইজুল।
অবশ্য এর আগে বাংলাদেশকে মোমেন্টাম এনে দেয় চা-বিরতি এবং বৃষ্টি। শেষ সেশনে বাংলাদেশ বসে চালকের আসনে। দিন শেষ হয় আলোকস্বল্পতার কারণে। ১৩৪ রানে চার উইকেট হারিয়েই সাজঘরে ফেরে দুই দল। এখানে আরও দুই উইকেট বেশি পড়তেই পারত, যদি বাংলাদেশ সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারত।











