অস্ট্রেলিয়ার পর এবার শ্রীলঙ্কা বধ

ব্যাট হাতে উড়ন্ত শুরু এনে দিয়েছিলেন আফিয়া প্রত্যাশা। আর বল হাতে দায়িত্বটা কাঁধে তুলে নিলেন পেস জুটি মারুফা আক্তার আর দিশা বিশ্বাস। একেবারে ইনিংসের শুরুতেই শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং লাইন আপে আক্রমণ করেন দুজন। তবে এরপরই আকাশে জমা হয় কালো মেঘ। ম্যাচ যেন ছিটকে যেতে থাকে।

আগে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ করেছিল ১৬৫ রান। আফিয়া প্রত্যাশা ও স্বর্ণা আক্তারের জোড়া অর্ধশতকে বিশাল এই স্কোর গড়ে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী দল। ৪৩ বল থেকে ৫৩ রানের ইনিংস খেলেন প্রত্যাশা। এরপর শেষ দিকে ঝড় তোলেন স্বর্ণা।

তিনি নিজের অর্ধশতক পূরণ করার জন্য খেলেছেন মাত্র ২৮ বল। ব্যাটিং করেছেন ১৭৮.৫৭ স্ট্রাইক রেটে। তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ৪ চার আর ২ ছয়। আরেক ব্যাটার দিলারা আক্তার মাত্র ২৭ বল থেকে খেলেন ৩৬ রানের ইনিংস।

এরপর বল হাতেও মারিফা ও দিশার দুর্দান্ত শুরু। মাত্র ২৪ রানেই দুই উইকেট হারিয়ে ফেলে শ্রীলঙ্কা। জয় তখন সময়ের ব্যাপারই মনে হচ্ছিল। তবে এরপরই ঘুরে দাঁড়ায় লংকান ব্যাটাররা। ভিশমি গুনারত্নে ও দেওমি ভিহাঙ্গা দুজনেই তুলে নেন অর্ধশতক।

এই দুজনকে যেন কোনভাবেই আটকানো যাচ্ছিল না। ম্যাচ প্রায় ফসকে যাচ্ছিল বাংলাদেশের হাত থেকে। তবে তাঁদের ৯৬ রানের বিশাল জুটি ভাঙার দায়িত্ব নেন মারুফাই। এই দলের অভিজ্ঞ পেসার মারুফা এনে দেন তৃতীয় উইকেট। তাতেই আবার ম্যাচে ফেরে বাংলাদেশ।

মারুফা আক্তার এর আগে বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়েও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলেছেন। ১৮ বছর বয়সী এই পেসার এবার খেলছেন অনূর্ধ্ব-১৯ নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও। মারুফা আক্তার আজ চার ওভার বল করে খরচ করেছেন মাত্র ১৯ রান। সাথে তুলে নিয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ দুই উইকেট।

মারুফার আঘাতের পর আর ম্যাচে টিকে থাকতে পারেনি শ্রীলঙ্কা। ১৬৫ রানের টার্গেট তাঁদের জন্য হয়ে উঠতে থাকে পাহাড়সম। তবুও শেষ পর্যন্ত লড়াই করেছে লংকান নারীরা। ২০ ওভার শেষে চার উইকেট হারিয়ে ১৫৫ রান করতে পেরেছে শ্রীলঙ্কা। অস্ট্রেলিয়াকে সাত উইকেটে হারানোর পর বিশ্বকাপে এবার শ্রীলঙ্কাকে ৯ রানে হারালো বাংলার বাঘিনীরা।

ওদিকে এই ম্যাচ জিতে প্লে অফ নিশ্চিত করে ফেলেছে বাংলাদেশ। গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশ নিজেদের শেষ ম্যাচে খেলবে আমেরিকার সাথে। সেই ম্যাচ জিতে এবার অপরাজিত গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হবার অপেক্ষায় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী দল।

লেখক পরিচিতি

আমার ডায়েরির প্রতিটা পৃষ্ঠাই আমার বাইশ গজ।

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Share via
Copy link