বিসিএলের প্রথম ম্যাচেই শতক, শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে চলল আকবর আলীর ‘গ্রেট শো’। ব্যাট হাতে নেমে রীতিমতো তাণ্ডব চালালেন ইস্ট জোনের বোলারদের বিরুদ্ধে। সেই সাথে খুব নীরবে একটা বার্তা দিয়ে গেলেন, জাতীয় দলের মিডল অর্ডারের জন্য নিজেকে পুরোদমে প্রস্তুত করে ফেলেছেন আকবর।
প্রথম ম্যাচ, টসে জিতে নর্থ জোনকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় ইস্ট জোন। প্রথম দিকে ঝড় তুলেছিলেন তানজিদ হাসান তামিম, সেই ঝড় শান্ত হয়ে যায় ১০২ রানের মাথায়। তবে এরপরই নর্থ জোনের সামনে নেমে আসে ঘোর বিপর্যয়। ১৬ রানের মাথায় তিন উইকেট হারায় তারা, লিটন দাস এবং তাওহীদ হৃদয় মাথা নিচু করে সাজঘরে ফেরেন।
১১৮ রানে চার উইকেট নেই। ক্রিজে নাজমুল হোসেন শান্ত একা দাঁড়িয়ে, একজন সঙ্গী দরকার তাঁর। গুটি গুটি পায়ে ক্রিজে নেমে এলেন আকবর। জোট বাঁধলেন শান্তর সাথে। যে চাপটা ধাক্কা দিল নর্থ জোনকে সেই সেটাকেই প্রতিপক্ষের দিকে ঘুরিয়ে দিলেন আকবর। শুরু থেকেও চড়াও হলেন বোলারদের উপর।

মারার বলটা মাঠের বাইরে, ভালোটাকে সিঙ্গেল-ডাবলে পরিণত করেছেন। আধুনিক জামানের ওয়ানডেতে যেমন চাহিদা থাকে আকবর পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে সেটাকে মিটিয়েছেন। শান্তর সাথে ১২০ রানের জুটি গড়েন, এরপরই কাপ্তান ফিরে গেলে সব দায়িত্ব পড়ে আকবরের উপর।
ড্রেসিংরুমে আশ্বাস বাণী ছুড়ে দেন তিনি, আমি তো আছি ভয় কি? পরের সময়টাতে সবাই দেখেছে এক ভয়ডরহীন ক্রিকেট। ফিফটির পর রুদ্ধমূর্তি ধারণ করেছেন তিনি, ৫৩ বলে ফিফটি পাওয়া আকবর সেঞ্চুরি তুলেছেন ৮২ বলে। শেষমেষ থেমেছেন ৮৭ বলে ১১১ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলে। হাঁকিয়েছেন আট চার আর ছয় ছক্কা। বীরের বেশেই ফিরেছেন সাজঘরে।
এবারের বিসিএলটা একটু ভিন্নভাবে আয়োজিত হচ্ছে, ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের প্রস্তুতির মঞ্চে বানানো হয়েছে এটাকে। জাতীয় দলের মিডল অর্ডারে একজন বিশ্বস্ত সেনানী দরকার, সে খোঁজও চলছে পুরোদমে। আকবর আলী কি এই শতকের মাধ্যমে সেই জায়গার জন্য একটা সীট রাখতে বললেন নির্বাচকদের?

Share via:











