রাইট উইং থেকে বল নিয়ে ডি বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন কোলে পালমার, তবে তাঁর শট ডিফেন্ডাররা ব্লক করে দিলে বল চলে আসে কিছুটা ফাঁকায় থাকা এনজো ফার্নান্দেজের দিকে। এনজো আর সময় নষ্ট করেননি, একেবারে উড়ে গিয়ে মেরেছেন দুর্ধর্ষ এক ভলি এবং সরাসরি গোল। তখনি কর্নার ফ্ল্যাগের দিকে দৌড়ে গিয়ে স্লাইড দিয়ে উদযাপনে মাতেন তিনি।
তাঁর এই গোল কেবল একটা গোল নয়, বদলে যাওয়া চেলসির প্রমাণও বটে। টটেনহ্যামের বিপক্ষে ম্যাচের শুরুতেই দুই গোলের ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েছিল তাঁরা; তবু হাল ছাড়েনি, দমে যায়নি। সেটার প্রতিদান হিসেবেই ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই পূর্ণতা পেয়েছে, সেটাও আবার এনজোর গোল দিয়েই।

পাঁচ মিনিটের মাথায় ডমিনিক সোলানকে এবং এগারো মিনিটের সময় ডেজান কুলুসেভেস্কি গোল করে টটেনহ্যামকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন। কিন্তু, বুঝে ওঠার আগেই ব্লুজরা ভূপাতিত হয় যেন, তবে নিজেদের গুছিয়ে নিয়ে দ্রুতই গোল শোধ করে তাঁরা। মিনিট পাঁচেক পরেই জোডান সানচো অবিশ্বাস্য একটা গোল করে স্তব্ধ করে দেন স্বাগতিক দর্শকদের।
প্রায় বিশ গজ দূর থেকে শট নিয়ে জাল কাঁপিয়ে দেয়াটা পুরো দলকে অনুপ্রাণিত করেছিল বোধহয়। সেজন্যই স্পার্সরা এরপর থেকে সেভাবে সুযোগই তৈরি করতে পারেনি, উল্টো চেলসি বারবার হানা দিয়েছে তাঁদের গোলমুখে। শেষমেশ দ্বিতীয়ার্ধে ভুল করে বসে তাঁরা, ভেস বিসৌমা বিদঘুটে ভঙ্গিতে ট্যাকেল করে বসেন কাইসেদোকে। এতেই পেনাল্টি পেয়ে যায় সফরকারীরা।

পালমারের জন্য সেখান থেকে গোল করাটা কঠিন কিছু ছিল না, এরপর তো আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার নিজেই এগিয়ে দিয়েছেন দলকে। এই নিয়ে ক্লাবের হয়ে টানা ছয় ম্যাচে গোল বা অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। স্বপ্নীল ফর্মের ধারাবাহিকতা যাকে বলে।
ম্যাচের শেষভাগে আরো একটা পেনাল্টি পেয়েছে সফরকারীরা, সেটাকেও গোলে রূপ দিয়েয়েছেন কোলে পালমার। ১২ টা পেনাল্টি নিয়ে প্রিমিয়ার লিগে একটাও মিস করেননি পালমার। তাঁর এই শতভাগ সাফল্যের রেকর্ড খুবই বিরল।

সেজন্যই ৯৬ মিনিটের সময় হিউং মিন সনের গোল ম্যাচে কোন প্রভাব ফেলতে পারেনি। শেষপর্যন্ত ৪-৩ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে চেলসি, এর মধ্য দিয়ে এককভাবে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসলো তাঁরা – আর টেবিল টপার লিভারপুলের সঙ্গে পয়েন্ট ব্যবধান কমে চারে এসে দাঁড়িয়েছে।










