অর্জুন টেন্ডুলকার ভারতের ক্রিকেট ইতিহাসের খুব ইউনিক একটা কেস স্টাডি। এমন না যে, তাঁর মাঝে প্রতিভা নেই। তবে, সবচেয়ে বেশি যেটা আছে, সেটা হল পারিবারিক ঐতিহ্য। তবে, কোনোটাই এই মুহূর্তে খুব একটা কাজে আসছে না তাঁর। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) ফ্র্যাঞ্জাইজি পরিবর্তন করলেও এখনও একাদশে জায়গা করে নিতে পারেননি তিনি।
বাবার নাম শচীন রমেশ টেন্ডুলকার। ক্রিকেটকে ধর্ম গণ্য করা ভারতে যিনি অনেকটা ঈশ্বরের মতো। আর, ঈশ্বরের পুত্রদের প্রতি সাধারণ মানুষদের যে আশা একটু বেশিই থাকে তা আলাদা করে বলে দিতে হয় না।
মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের দলে ছিলেন অনেক দিন ধরে। একাদশে মাত্র পাঁচবার সুযোগ পেয়ে কিছু ভাল স্পেল করলেও, একাদশে থিতু হতে পারেননি। তাঁর প্রতিভা মাথায় রেখেই নিলাম থেকে তাঁকে দলে টেনেছিল লখনৌ সুপার জায়ান্টস।

নেটে বল করতে গিয়ে অধিনায়ক ঋষাভ পান্তকে একের পর এক করা ইয়র্কারের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘুরে বেড়াচ্ছে। পান্তকে বিধ্বস্ত করতে পারলেও এখনও একাদশে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ হয়নি।
অর্জুনের প্রতিভা নিয়ে সন্দেহ না থাকলেও লখনৌর একাদশে তাঁর জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনা যে খুব বেশি তা বলা যায় না। দোষ এখানে অর্জুনের না। মোহাম্মদ শামি, আবেশ খান, প্রিন্স যাদব কিংবা মহসিন খানদের পেছনে ফেলে দলে ঢুকতে পারা খুবই কঠিন।
এখন পর্যন্ত মাত্র দুই ম্যাচ খেলেছে লখনৌ। পুরো আইপিএলই সামনে পড়ে আছে তা মাথায় রেখে বলা যায়, অর্জুন সামনে হয়তো সুযোগ পেতেই পারেন। সেই সুযোগের সদ্ব্যবহার শচীনপুত্র করতে পারেন কিনা তাই হবে দেখার।

ক্রিকেটের ইতিহাস বলে স্টারকিডদের জন্য এই জায়গা সহজ নয়। রোহান গাভাস্কার কিংবা ভিভ রিচার্ডসের ছেলে ম্যালি রিচার্ডস, কেউই ক্যারিয়ার খুব বেশি লম্বা করতে পারেনি। অর্জুনের জন্য লড়াইটা আরও বড়।
কারণ, ক্রিকেট ইতিহাসের সেরাদের সেরা তকমাধারী মানুষটা তাঁর বাবা। শচীনের ছেলে হয়ে জন্ম হওয়াটাই সম্ভবত অর্জুনের জীবনের সবচেয়ে বড় অপরাধ।










