নাহিদের গতির সামনে সবাই নস্যি!

মঈন আলী, নামের পাশে জুড়ে আছে ইংলিশ ব্যাটার তকমা। গতি আর বাউন্সের সাথেই যার বেড়ে ওঠা। সেই মঈনকে একেবারে দুমড়ে মুচড়ে ফেলছেন নাহিদ রানা। তা দেখে দূরে দাঁড়িয়ে হাততালি দিচ্ছেন বাবর আজম। বোধহয় স্বস্তির নিঃশ্বাসও নিয়েছেন। নাহিদের ছোড়া এই বারুদের গোলার সামনে তাঁকে অন্তত দাঁড়াতে হচ্ছে না।

মঈন আলী, নামের পাশে জুড়ে আছে ইংলিশ ব্যাটার তকমা। গতি আর বাউন্সের সাথেই যার বেড়ে ওঠা। সেই মঈনকে একেবারে দুমড়ে মুচড়ে ফেলছেন নাহিদ রানা। তা দেখে দূরে দাঁড়িয়ে হাততালি দিচ্ছেন বাবর আজম। বোধহয় স্বস্তির নিঃশ্বাসও নিয়েছেন। নাহিদের ছোড়া এই বারুদের গোলার সামনে তাঁকে অন্তত দাঁড়াতে হচ্ছে না। কোনো ব্যাটারই এমন বোলারের মোকাবিলা দুঃস্বপ্নেও করতে চাইবেন না।

অভিষেক ম্যাচে নিজের উপস্থিতি ঠিকঠাক জানান দিতে পারেননি। কিছুটা আক্ষেপ আর হতাশা নিয়ে খালি হাতে ফিরেছেন সেদিন। ওটাই তাঁকে তাতিয়ে দেয়, ভেতরের ক্ষুধার্ত বাঘটাকে জাগিয়ে তোলে।

প্রথম ওভার থেকেই চনমনে চিতাকে পাওয়া গেল এদিন। এসেই টুটি চেপে ধরেছিলেন আজম খানের। গতির সাথে শরীর বরাবর তেড়ে আসা বলে তাঁর দুর্বলতা আছে। নাহিদ সেটাকেই পুঁজি করে নিলেন। ফলাফল প্রথম চার বলের চারটাই ডট, পঞ্চম বলে কোনো রকম শরীর বাঁচিয়ে একটা সিঙ্গেল নিয়ে যেন হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছেন আজম। প্রথম ওভারেই নাহিদ দেখিয়েছেন নিজের ঝলক। খরচা মোটে এক রান।

সপ্তম ওভারে আবারও ফিরলেন আক্রমণে। এবার আরও বেশি আগ্রাসী। ব্যাটিং প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা সাদ বেগ ‘নাহিদ’ ভয়কে জয় করতে চাইলেন। বিপত্তি বাধল তখনই। বিদ্যুৎগতির বাউন্সারের কোনো জবাব দিতে না পেরে ক্যাচ তুলে দিলেন নাহিদের হাতে। গল্পের দ্বিতীয় খণ্ডের শুরু সেখান থেকেই। মঈনকে ক্রিজে স্বাগত জানালেন ট্রেডমার্ক বাউন্সারে। এরপর যেন দিনের সেরা বলটা ছুড়ে মারলেন মঈনকে লক্ষ্য করে। শরীর, ব্যাট, স্টাম্প, সবকিছুকে ফাঁকি দিয়ে বলটার ঠিকানা হলো উইকেটরক্ষকের হাতে। দূরে দাঁড়িয়ে থাকা বাবর এই বলটার মাহাত্ম্য বুঝতে ভুল করেননি, হাততালি দিয়ে নাহিদের দিকে প্রশংসার বার্তা পাঠালেন।

দীর্ঘ এক বিরতি শেষে ১৪তম ওভারে আবারও হাজির নাহিদ। এবারও যেন ধ্বংসের ব্রত নিয়েই এলেন। খুশদিল শাহকে উড়িয়ে দিলেন বাউন্সারে, ওভারের শেষ বলে অ্যাডাম জাম্পার স্টাম্প উপড়ে নিলেন। এমনকি একটা রানও খরচা হতে দিলেন না। জোড়া শিকারের সাথে মেইডেন ওভার।

শেষটা টানলেন এক রান দিয়ে। চার ওভারে আগুন ঝরানো স্পেল জুড়ে তিন উইকেট শিকার, বিনিময়ে রান বিলিয়েছেন মোটে সাত। যেন পিএসএলের মঞ্চ কাঁপিয়ে দিলেন গতির ঝড় তুলে। দলও পেল ১৫৯ রানের বিশাল জয়।

নাহিদের ভাণ্ডারে থাকা শক্তিশালী অস্ত্রটা ব্যাটারের মনে ভয় তৈরি করা। নাহিদ সেটারই ব্যবহার করলেন। পিএসএলের মঞ্চে নিজের দানবীয় সত্তার অভিষেক ঘটালেন। যেন করাচির বুকে এক গর্জন তুলে বলে গেলেন, ‘আমার গতির সামনে তোমরা সবাই নস্যি’।

লেখক পরিচিতি

প্রত্যয় হক কাব্য

স্বপ্ন লেখার কি-বোর্ড

Share via
Copy link