রক্তিম ড্রাগনের আগুনে নি:শ্বাস হোক বাঘের হুঙ্কার

কাই তাক স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ খেলেছে ১২ জনের বিপক্ষে। না, কোন পক্ষপাতদুষ্ট সিদ্ধান্ত তাদের বিপক্ষে যায়নি। প্রায় ৫০ হাজার মানুষের এক রক্তিম স্রোতকে হতাশায় ডুবিয়েছেন রাকিব হোসেন। 

কাই তাক স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ খেলেছে ১২ জনের বিপক্ষে। না, কোন পক্ষপাতদুষ্ট সিদ্ধান্ত তাদের বিপক্ষে যায়নি। বরং এক আগ্নেয়গিরির সামনে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ অন্তত একটা পয়েন্ট অর্জন করতে পেরেছে। প্রায় ৫০ হাজার মানুষের এক রক্তিম স্রোতকে হতাশায় ডুবিয়েছেন রাকিব হোসেন।

বাংলাদেশের বিপক্ষে হংকং, চায়নার কাই তাক স্টেডিয়াম যেন পরিণত হয়েছিল এক ফুটন্ত আগ্নেয়গিরিতে। যেদিকেই চোখ যায়, জ্বলন্ত লাল রঙা আভায় চোখ জ্বলসে যাওয়ার উপক্রম। রুপকথার সেই ড্রাগন যেন সত্যিই রক্তি চোখে বাংলাদেশের দিকে তাকিয়ে থেকেছে, সময়ে সময়ে আগুনে নিঃশ্বাসে অক্সিজেনের মাত্রা কমিয়েছে।

ইউরোপীয়ান ফুটবলের ছায়া নেমে এসেছিল এশিয়ার বুকে। ছাদ বন্ধ, প্রায় পঞ্চাশ হাজার দর্শকের লাগাতার হুঙ্কার, বদ্ধ স্টেডিয়ামে এ যেন রীতিমত দোজখ। হংকং আবারও বোঝাল ঘরের মাঠ আসলে কেমন হয়। এই সংস্কৃতিই কেবল বাংলাদেশের ফুটবলকেও বদলে দিতে পারে আমুলে। অবশ্য বাংলাদেশেও তো এই ভক্তদের নিঃস্বার্থ ও অক্লান্ত পরিশ্রমেই বদলে যেতে শুরু করেছে ফুটবলের ভঙ্গুর চিত্র।

এখন স্রেফ মাঠের প্রতিপক্ষকে দোজখের স্বাদ দেওয়ার পালা। ফুটবল মাঠে সত্যিকার অর্থেই কট্টর সমর্থকরা বনে যেতে পারেন দ্বাদশ খেলোয়াড়। যারা সবুজ গালিচায় পা রাখবে না। কিন্তু প্রতিপক্ষের মস্তিষ্কে আঘাত হানবে প্রতিটা মুহূর্তে। প্রতিপক্ষ স্ট্রাইকারের হৃদকম্পন বাড়িয়ে দেবে প্রকম্পিত আবহ সৃষ্টি করে।

ঘরের মাঠে দায়িত্বটা তো শুধু হামজা চৌধুরী, সামিত সোম, ফাহমিদুল ইসলামদের না। পুরান ঢাকার ওই বুড়ো চাচার, নারায়নগঞ্জের পাগল ছেলেটার, ধানমন্ডি কিংবা গুলশানের অভিজাত পরিবারের ছেলেটারও যে দায়িত্ব আছে। সকলের গলায় গলা মিলিয়ে প্রতিপক্ষকে ভুল করতে বাধ্য করতে হবে। লাল-সবুজের গণজোয়ার তুলতে হবে জাতীয় স্টেডিয়ামের প্রতিটা কোণায়।

এই যে হংকংয়ের কাইতাক বনে গেল অগ্নিকূণ্ড, তেমনই ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি হতে হবে এই তল্লাটেও। সেটাই বরং বদলে দিতে পারে সমস্ত সমীকরণ। নিয়ম করে ইউরোপীয়ান ফুটবলে বুদ থাকা প্রজন্মকে ঘরের মাঠকেও বানাতে হবে, প্রতিপক্ষের মৃত্যুকুপ। সুদিনের অপেক্ষায় না থেকে, টেনে-হিচড়ে সুদিনকে কাছে আনার এটাই তো উপায়।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link