এবারের এশিয়া কাপে বাংলাদেশ দল বড় স্বপ্ন দেখাচ্ছে। আর এই স্বপ্নযাত্রায় প্রথম বাধাটা দেবে হংকং। আসরের তৃতীয় ম্যাচে লিটনদের প্রথম অ্যাসাইনমেন্ট এই দলের সাথেই। খুব সহজেই কি লিটনরা লেটার মার্কস তুলতে পারবে, নাকি হোঁচট খাওয়ার কোনো সম্ভাবনা আছে?
কাগজ-কলমের বিচারে বাংলাদেশ হংকংয়ের থেকে ঢের এগিয়ে। তবে বাইশ গজে তো আর এসব চলে না, যারা ভালো খেলবে দিনটা তার। এমনই এক তিক্ত অভিজ্ঞতার সাক্ষী বাংলাদেশ হয়েছিল এই দলের বিপক্ষেই।
এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ দল টি-টোয়েন্টিতে একবারই হংকংয়ের মুখোমুখি হয়েছে, তাও আবার ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে। আর সবাইকে হতবাক করে দিয়ে সেবার দুই উইকেটের ব্যবধানে লজ্জার এক হার মেনে নিতে হয়েছিল বাংলাদেশকে।

আগে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের ন্যাক্কারজনক এক ব্যাটিং প্রদর্শনী দেখা যায়। মাত্র ১০৮ রানেই গুটিয়ে যায় তারা। হংকংয়ের হয়ে একাই চার উইকেট নেন নাদিম আহমেদ। জবাবে ব্যাট করতে নেমে সাকিব আল হাসানের ঘূর্ণি সামলাতে হিমশিম খেলেও শেষ পর্যন্ত এই স্বল্প রানের গণ্ডি দুই বল হাতে রেখেই পার হয়ে যায় হংকং।
তবে এবারের সিনারিওটা অনেকটাই ভিন্ন। দীর্ঘ ১১ বছর পর মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে আবারও দুই দলের মুখোমুখি দেখা। ১৪ সালের সেই পরাজিত দলের একজনও নেই স্কোয়াডে।
তাই বলে যে হংকং একেবারেই অপরিচিত দল তা কিন্তু নয়। ২০২৪ সালে ইমার্জিং এশিয়া কাপে হংকং জাতীয় দলের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ ‘এ’ দল। সেই ম্যাচে ছিলেন এবারের এশিয়া কাপের মূল স্কোয়াডে জায়গা পাওয়া চার ক্রিকেটার—পারভেজ হোসেন ইমন, সাইফ হাসান, তাওহীদ হৃদয় এবং শামীম হোসেন।

ওই ম্যাচে হংকং প্রথমে ব্যাট করে তুলেছিল ১৫০ রান। রান তাড়া করতে নেমে অবশ্য খুব বেশি সমস্যায় পড়তে হয়নি বাংলাদেশ ‘এ’ দলকে। ওপেনার পারভেজ ইমন করেছিলেন ২৮ রান, সাইফ হাসান থেমেছিলেন ৫ রানে। তাওহীদ হৃদয়ের ব্যাট থেকে আসে ২২ বলে ২৯ রানের কার্যকরী ইনিংস। আর শামীম হোসেন অপরাজিত ছিলেন ১৯ রানে। বলা যায়, সেই অভিজ্ঞতা এবারের আসরে তাদের আত্মবিশ্বাসের ভরসা হয়ে উঠতে পারে।
তাই তো অভিজ্ঞতা কিংবা সাম্প্রতিক সময়ের পারফরম্যান্স বিবেচনা করলে লিটন-ইমনদের খুব বেশি বেগ পাওয়ার কথা নয় এই ম্যাচে। তবে হালকাভাবে নেওয়ার উপায়ও অবশ্য নেই। বাংলাদেশ নিশ্চয় পচা শামুকে পা কাটতে চাইবে না।











