বিশ্বজয়ী ভারত বনাম দিশেহারা পাকিস্তান

একদল যখন সাফল্যের শিখরে বসে বিশ্ব শাসনের নীল নকশা বুনছে, অন্যদল তখন নিজেদের অস্তিত্ব সংকটে জর্জরিত।

ক্রিকেট মানচিত্রে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশের ভাগ্য এখন যেন দুই মেরুতে। একদল যখন সাফল্যের শিখরে বসে বিশ্ব শাসনের নীল নকশা বুনছে, অন্যদল তখন নিজেদের অস্তিত্ব সংকটে জর্জরিত। আর এই ব্যর্থতার আগুনে ঘি ঢাললেন খোদ পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ও কিংবদন্তি উইকেটকিপার রশিদ লতিফ।

আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে যখন আতশবাজির আলো আর গগনবিদারী উল্লাসে ভারত তাদের তৃতীয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বমুকুট মাথায় পরছে, তখন সীমান্তের ওপারে কেবলই শ্মশানের নীরবতা। কিউইদের ৯৬ রানে ধুলিসাৎ করে ভারতের এই আধিপত্যকে রশিদ লতিফ দেখছেন এক দীর্ঘমেয়াদী তপস্যার ফল হিসেবে।

​তিনি আরও যোগ করেন, ‘ভারতের ডিএনএ হলো ট্রফি জেতা, আর আমাদের ডিএনএ হলো নকআউটের আগেই হেরে যাওয়া। তাদের ডিএনএ হলো ফাইনালে খেলা এবং জয়লাভ করা।’

লতিফের মতে, ভারতীয় ক্রিকেটের এই অদম্য শক্তি গত এক দশকের সুপরিকল্পিত পরিশ্রমের ফল। এশিয়া কাপ থেকে শুরু করে আইসিসির প্রতিটি ইভেন্টে ভারতের এই ধারাবাহিকতা অন্য দেশগুলোর জন্য এখন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) অপেশাদারিত্ব এবং খেলোয়াড়দের চুক্তি নিয়ে টালবাহানারও সমালোচনা করেছেন এই ক্রিকেটার। বোর্ডের অব্যবস্থাপনাকে কাঠগড়ায় তুলে তিনি বলেন, ‘কেবল দুর্বল বোর্ডগুলোই খেলোয়াড়দের চুক্তি নিয়ে এমন লেজেগোবরে অবস্থা করে। একটি চুক্তিতে পুরস্কার এবং শাস্তি – সবকিছুই স্পষ্টভাবে থাকা উচিত।’

ক্রিকেট ইতিহাসের নব্য পাণ্ডুলিপিতে ভারত আজ এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী অধ্যায়। প্রথম দল হিসেবে কুড়ি ওভারের বিশ্বমঞ্চে তিনটি শিরোপা জয় এবং নিজেদের আঙিনায় শ্রেষ্ঠত্ব অটুট রাখা। ভারতীয় ক্রিকেটের এই স্বর্ণযুগকে লতিফ এক প্রকার অলঙ্ঘনীয় বলে মনে করছেন।

​মাঠের লড়াইয়ে ভারতের এই ক্ষিপ্র মানসিকতা আর পাকিস্তানের নতিস্বীকার, এই দুইয়ের ব্যবধানই আজ স্পষ্ট করে দিয়েছে কেন একদল ট্রফি হাতে ইতিহাসের পাতায় অমর হচ্ছে, আর অন্যদল তলিয়ে যাচ্ছে বিস্মৃতির অতল গহ্বরে।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

জীবন তড়িৎ কোষে অ্যানোডে ক্রীড়ার উন্মাদনা আর ক্যাথোডে সাহিত্যের স্নিগ্ধ নির্যাস।

Share via
Copy link