মেসি বনাম এমবাপ্পে: বন্ধু তুমি, শত্রু তুমি

একজনের জন্য অমরত্ব লাভের হাতছানি আরেকজনের সামনে ২৩ বছর বয়সেই দুটি বিশ্বকাপ শিরোপা জেতার সুযোগ। ফাইনালের মহারণে ফ্রান্স আর আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হবার পাশাপাশি চলবে ব্যক্তিগত অর্জনের লড়াইও। গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে ফাইনালের আগ পর্যন্ত সমানে সমানে লিওনেল মেসি আর কিলিয়ান এমবাপ্পে।

ক্যারিয়ারে সম্ভাব্য সব কিছুই জিতেছেন লিওনেল মেসি। গত বছর কোপা আমেরিকা জিতে পূর্ণ করেছেন নিজের আন্তর্জাতিক শিরোপার আক্ষেপও। এবার বাকি সবচেয়ে অর্জন, বিশ্বকাপ। ফাইনাল তাই মেসির ক্যারিয়ারকে পূর্ণতা দেবার মঞ্চ।

২০১৫ সালেই বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার গোল্ডেন বল জিতেছিলেন লিওনেল মেসি। এবার দ্বিতীয়বারের মত গোল্ডেন বল জয়ের দৌড়েও বেশ এগিয়ে আছেন মেসি। পাশাপাশি ৫ গোল করে যৌথভাবে আছেন টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার গোল্ডেন বুট জয়ের দৌড়েও।

অন্যদিকে মেসির পিএসজি সতীর্থ কিলিয়ান এমবাপ্পেও আছেন দুর্দান্ত ফর্মে। ৫ গোল করে মেসির সাথে যৌথভাবে আছেন গোল্ডেন বুট জেতার দৌড়ে। শুধু গোলই নয়। বাঁ প্রান্ত দিয়ে রীতিমতো প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারদের জন্য আতন্ক ছড়াচ্ছেন এমবাপ্পে। মাত্র ২৩ বছর বয়সেই দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জেতা থেকে মাত্র এক ধাপ দূরে এমবাপ্পে।

এছাড়াও ৪ গোল করা আর্জেন্টিনার হুলিয়ান আলভারেজ আর ফ্রান্সের অলিভিয়ার জিরুডও আছেন গোল্ডেন বুট জেতার দৌড়ে। ফাইনালের মঞ্চে তাই গোল্ডেন বুট জেতার মুখোমুখি লড়াই হবে এই চারজনের মধ্যে।

গোল্ডেন বুটের পাশাপাশি গোল্ডেন বল জেতার দৌড়েও আছেন মেসি। সম্ভবত গোল্ডেন বলের সবচেয়ে বড় দাবীদারও মেসি। গোলের পাশাপাশি এসিস্ট আর প্লে মেকিং এ ৩৫ বছর বয়সেও মুগ্ধতা ছড়াচ্ছেম ক্ষুদে জাদুকর। এছাড়াও ফ্রান্সের আন্তোয়ান গ্রিজমানও আছেন গোল্ডেন বুটে লড়াইয়ে। প্লে মেকার পজিশনে রীতিমতো দুর্দান্ত খেলছেন গ্রিজমান। পুরো টুর্নামেন্ট প্রায় ২১ টি সুযোগ তৈরি করেছেন গ্রিজমান।

সব মিলিয়ে একটা কথা বলাই যায় যে, সময়ের দুই সেরা ফুটবলারের লড়াই হতে যাচ্ছে ফাইনালে। আরও মজার ব্যাপার হল, এই দু’জন ক্লাব ফুটবলে খেলেন পাশাপাশি। ফাইনালে অবশ্য সেই বন্ধুত্বতা থাকার কোনো কারণ নেই।

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Share via
Copy link