সব সময় সমালোচনা প্রাপ্য নয় মিরাজের

এই দুই ম্যাচে তিনি অধিনায়কত্ব কিংবা বোলিং পরিকল্পনায় শতভাগ পাশ মার্কই পাচ্ছেন। বিশ্বকাপের আগে মিরাজের এমন ফিরে আসা বাংলাদেশের জন্য খুবই জরুরী ছিল। 

মেহেদী হাসান মিরাজ সব কিছুতেই যেন সহজ শিকার। বিশেষ করে যখন সমালোচনা করতেই হবে। হ্যাঁ, সব সময় হয়ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের হোয়াইট বল ফরম্যাটে তাঁর অ্যাপ্রোচ আপ টু দ্য মার্ক নয়, তবে পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই ওয়ানডেতে তাঁর অ্যাপ্রোচের সমালোচনা করা যায় না।

দ্বিতীয় ওয়ানডেতে তিনি আক্রমণে এসেই গলার কাঁটা হয়ে ওঠা মাজ সাদাকাতকে ফিরিয়ে দিয়েছেন। প্রশ্ন করা হচ্ছে, কেন প্রথম ম্যাচের মত পাওয়ার প্লে-তে আক্রমণে আসলেন না? আসলেন না, কারণ দুুই ম্যাচের পরিস্থিতির পার্থক্য আছে।

প্রথম ম্যাচে ষষ্ঠ ওভারে আসেন, পাওয়ার প্লে-তে। পাকিস্তানের তখন রান আসছিল না, প্রতিপক্ষ মিরাজকে টার্গেট করতে চাইবে। সেই পরিকল্পনা থেকে আসেন। সেটা কাজে লাগে। দ্বিতীয় ম্যাচে আসেননি, কারণ রান হচ্ছিল।

আগেভাগে বোলিংয়ে আসলে বাড়তি রান হজম করার শঙ্কা ছিল। নিজের সক্ষমতা বুঝে ক্রিকেট খেলা দরকার। সেটাই মিরাজ করেছে। ম্যাচ জুড়ে ব্রেক থ্রু এনেছেন, দারুণ কিছু রান আউট করেছেন। আক্ষরিক অর্থেই ওয়ানডেতে নিজের উপস্থিতির জানান জোরেসোরেই দিচ্ছেন অধিনায়ক মিরাজ।

প্রথম ম্যাচে টানা বোলিং করিয়েছেন নাহিদ রানাকে। সাত ওভার বোলিংয়ে নি:সন্দেহে এই এক্সপ্রেস বোলারের ওপর চাপ পড়েছে। তবে, সেটাই ম্যাচের ডিম্যান্ড ছিল। নাহিদ রানা টানা পাঁচ ওভার উইকেট পেয়েছেন। অধিনায়ক সব দিক থেকে পাকিস্তানকে চেপে ধরতে চেয়েছেন, অল আউট অ্যাটাক এভাবেই করতে হয়। সেটার সুফলও পেয়েছে বাংলাদেশ।

প্রথম ম্যাচে মিরাজ তিনটা উইকেটও নিয়েছেন। দুই ম্যাচ মিলিয়ে নিয়েছেন পাঁচ উইকেট। অধিনায়ক হিসেবে মিরাজের জায়গাটা নড়বড়ে ছিল। তবে, এই দুই ম্যাচে তিনি অধিনায়কত্ব কিংবা বোলিং পরিকল্পনায় শতভাগ পাশ মার্কই পাচ্ছেন। বিশ্বকাপের আগে মিরাজের এমন ফিরে আসা বাংলাদেশের জন্য খুবই জরুরী ছিল।

লেখক পরিচিতি

সম্পাদক

Share via
Copy link