পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজটি মেহেদী হাসান মিরাজের জন্য হতে চলেছে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। তার অধিনায়কত্ব টিকবে কি-না সেটা নির্ভর করছে এই সিরিজে তিনি কেমন করেন। পাশাপাশি দলের পারফরমেন্সও তার অধিনায়কত্ব কেড়ে নেওয়া জন্য প্রভাবক বনে যেতে পারে যেকোন সময়।
গত বছর হুট করেই শ্রীলঙ্কা সফরের মাঝপথে জাতীয় ওয়ানডে দলের অধিনায়কত্ব দেওয়া হয় মিরাজকে। বদলের কারণ নাজমুল হোসেন শান্তকে চাপমুক্ত করা। সেই চাপেই যেন কাবু হয়ে পড়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। যদিও উইকেট শিকার ও রান করার দিক থেকে তিনি রয়েছেন তৃতীয় অবস্থানে।
কিন্তু এই পরিসংখ্যানে আছে শুভঙ্করের ফাঁকি। সেই ফাঁকির সুবিধাই তুলে নিচ্ছেন মিরাজ। তার ইম্প্যাক্ট শূন্য, বোলিংয়েও শাণ হারিয়েছেন তিনি। নিজেকে ক্যারি করতে গিয়েই তার দিন পার হয়ে যাচ্ছে, দলকে নেতৃত্ব দেওয়া তার আর হয়ে উঠছে না। ওয়ানডেতে পূর্ণ অধিনায়ক হওয়ার পর থেকে মিরাজের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জিতেছে নয় ম্যাচের তিনটি।

সমস্যা হচ্ছে, এই সময়ে গোটা দলের পারফরমেন্সেই ঘটেছে ভরাডুবি। এক্ষেত্রে অধিনায়ক হিসেবে তিনিও যে দলের খেলোয়াড়দের উজ্জীবিত করতে পারছেন না। রান সংগ্রহ ও উইকেট শিকারে তিনি তিন নম্বরে আছেন বটে। কিন্তু সেসবকে গুরুত্ব নিরিখে মাপলেও কার্যকারিতা খুঁজে পাওয়া হয়ে যাবে দুষ্কর।
দলের আট নম্বর ব্যাটার তিনি। তার কাজ মূলত বল হাতে প্রতিপক্ষের উইকেট শিকার করা। একটা সময়ে তাকে ভাবা হয়েছিল সাকিব আল হাসানের বিকল্প। বিকল্প হওয়া দূরে থাক মিরাজ নিজস্ব সত্ত্বাই হারিয়ে ফেলতে চলেছেন। ৭১ স্ট্রাইকরেটে ২১.৬২ গড়ে তিনি রান করেছেন। কিন্তু একজন আট নম্বর ব্যাটারের কাছ থেকে নিশ্চয়ই এমন স্ট্রাইকরেট কাম্য নয়।
যদিও অধিনায়কত্বের সুবিধা নিয়ে তিনি নিজেকে ব্যাটিং অর্ডারে প্রমোট করেছেন সাম্প্রতিক সময়ে। পাঁচ-ছয়ে ব্যাটিং করেছেন। সফলতা বলতে ৮৭ বলে আফগানিস্তানের বিপক্ষে করা ৬০ রান। তবে তার ব্যাটিংয়ের সীমাবদ্ধতার দৃষ্টান্ত স্থাপন হয় ঘরের মাঠে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৮৯ বলে করেন স্রেফ ৩২ রান।

সেই ম্যাচটাও সুপার ওভারে গিয়ে হেরেছিল বাংলাদেশ। বোলিংয়ের প্রসঙ্গ টানলে ভয়াবহতা আরও তীব্র হয়। ৪৭.৩ স্ট্রাইকরেটে ৯ ম্যাচে ১১ উইকেট নিয়েছেন মিরাজ। অর্থাৎ প্রায় ৫০ বল পরে একটি করে উইকেটের দেখা পাচ্ছেন মিরাজ। দলের বোলিং অপশনের অন্যতম সদস্য ধরা হয় তাকে। কিন্তু তিনিই কি-না ব্যর্থতার শীর্ষে অবস্থান করছেন। অধিনায়ক হওয়ার পর একাধিক উইকেট পেয়েছেন তিনি স্রেফ তিন দফা।
প্রয়োজনের মুহূর্তে তিনি কখনোই উইকেট এনে দিতে সক্ষম হননি। অধিকাংশ সময়েই নিজেকে আড়াল করে রাখার একটা প্রবণতাও রয়েছে তার। এসবকিছু যদি অব্যাহত থাকে পাকিস্তান সিরিজেও, তাহলে অবধারিতভাবে নেতৃত্ব হারাতে চলেছেন তিনি। এমনকি পারফরমেন্সের এমন বেহাল দশা তাকে দল থেকেও ছিটকে দিতে পারে। মিরাজ তাই দাঁড়িয়ে আছেন খাঁদের কিনারে।











