২০০৪ থেকে ২০২৫, দীর্ঘ দুই যুগ! কত কিছুই না বদলে গেছে এই সময়ের পরিক্রমায়। কিন্তু ঠায় দাঁড়িয়ে ছিলো একটা রেকর্ড। টেস্টে এক ইনিংসে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড, ব্রায়ান লারার অপরাজিত ৪০০ রানের রেকর্ড।
একটু হলেই তো সেই রেকর্ড অতীত হতে পারতো, উইয়ান মুল্ডার চাইলেই তো ভেঙে দিতে পারতেন। অবিনশ্বর বনে যাওয়া এই রেকর্ডকে ভেঙে নিজেকে নিতে পারতেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মুল্ডারের পরিচয় বোলিং অলরাউন্ডার। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে এই পরিচয়েই দলে সুযোগ মেলে তার। কিন্তু ভাঙা-গড়ার মধ্য দিয়ে যাওয়া টেস্ট দলে বেশ কিছুদিন ধরেই তিন নাম্বারে ব্যাটিং করছেন মুল্ডার।

তিন নাম্বার ব্যাটিং পজিশন! রিকি পন্টিং, রাহুল দ্রাবিড়, জ্যাক ক্যালিস, কুমার সাঙ্গাকারার ব্যাটিং পজিশন। দলের সেরা ব্যাটাররা ব্যাটিং করেন এই পজিশনে। সেখানে উইয়ান মুল্ডার! প্রশ্ন ছিলোই। সেই মুল্ডার যখন ২৫০, ৩০০ এর গন্ডি ভেঙে এগিয়ে যাচ্ছিলেন ৪০০ এর দিকে, অনেক ক্রিকেট ভক্তই মানতে পারেন নি।
তবে মুল্ডার বোধহয় ক্রিকেটের বরপুত্রের রেকর্ড ভাঙতে চাইলেন না। যে জায়গাটা এত বছর অক্ষত রয়েছে সেটার গায়ে হাত দিলেন না। ক্রিকেটে লারা মানেই কত-শত স্মৃতি, ক্রিকেটের কি বিশাল সব মাধুর্যতা! লারার রেকর্ড সেই সব স্মৃতি মনে করায়। ব্যাটিং আভিজাত্যের সেই রেকর্ড কি-না ভেঙে দেবেন একজন বোলিং অলরাউন্ডার!
যার ব্যাটে মোহন বাশীর সুর জাগে না, যার শটে তন্দ্রালু হয়ে তাকিয়ে থাকা যায় না, যাকে নাম্বার ‘৩’ হিসেবে গ্রহন করা যায় না, তিনিই!

ব্রায়ান লারা রেকর্ড গড়েছিলেন ইংল্যান্ডের শক্তিশালী বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে। উইয়ান মুল্ডারের সামনে ছিল দূর্বল জিম্বাবুয়ে। অপরদিকে, সমালোচনা রয়েছে, ৪০০ রান করার পথে লারা দলের কথা ভাবেন নি, নিজের রেকর্ডের কথা ভেবেছিলেন। স্লো ব্যাটিং করেছিলেন। সিরিজে পিছিয়ে থাকা অবস্থায় রেকর্ডের পিছনে ছুটে দলকে ড্র করতে বাধ্য করেছিলেন।
তবে মুল্ডারের থেমে যাওয়া ৩৬৭ রানের ইনিংসটিতে রানের গতি কমেনি। দলের জন্য খেলেছেন শেষটাতে হয়তো দলের কথা ভেবেই থেমেছেন। অনেকে হয়তো আফসোসের সুরে বলছেন ‘মুল্ডার, এটা আপনি কি করলেন!’
২৯৭ বলে ত্রিপল সেঞ্চুরি। টেস্ট ক্রিকেটের দ্বিতীয় দ্রুততম ট্রিপল সেঞ্চুরির রেকর্ড । শেষটাতে অপরাজিত থাকলেন ৩৩৪ বল খেলে ৩৬৭ রানে। ৪৯ টি চার, চারটি ছয় স্ট্রাইক রেট ১০৯.৮৮। একটা অবিশ্বাস্য ইনিংস উপহার দিলেন।

মুল্ডারের হাতে সময় ছিল। দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনের শেষ ভাগে এসে আকষ্মিক ভাবে ডিক্লেয়ার করলেন। দলের অধিনায়ক ছিলেন চাইলেই আরও কিছুক্ষণ খেলতেই পারতেন।
মুল্ডার কোন শিরোনামে ছিলেন না এতদিন, তাকে নিয়ে আলাপের কিছু ছিলও না। একজন সাদা মাটা ক্রিকেটের হিসেবে সাউথ আফ্রিকার দলে নিজেকে টেনে নিয়ে গেছেন। তবে এই ইনিংসটি তাকে চিরস্মরণীয় করে রাখবে, ক্রিকেট তাকে বহুকাল মনে রাখবে। যতবার লারার ৪০০ রানের কথা উঠবে ততবারই হয়তো কেউ কেউ বলে উঠবেন, মুল্ডার চাইলেই তো ভেঙে দিতে পারতেন!











