আইপিএলের আসরে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স মানেই এক প্রকাণ্ড নীল তিমির দাপট। অনেক দিন হলো সেই দাপটে ভাটা পড়েছে। শেষ যখন তারা সোনালী ট্রফিটা ছুঁয়েছিল, গ্যালারি ছিল নিস্তব্ধ, পৃথিবী লড়ছিল মহামারীর সাথে। রোহিত শর্মার হাতে তখনও ভারতের নীল জার্সির ব্যাটন ওঠেনি। কিন্তু সময় বদলেছে। ২০২৬ সালের এই বসন্তে মুম্বাইয়ের পাল্টানরা তৈরি হচ্ছে সেই পুরোনো রাজত্ব ফিরে পেতে।
মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বর্তমান স্কোয়াডটি যেন এক এক টুকরো রত্নভাণ্ডার। অভিজ্ঞতার এমন মিশেল খুব কম দলেই দেখা যায়। হার্দিক পান্ডিয়ার হাতে যখন নেতৃত্বের চাবিকাঠি, তখন তাঁর পাশে যুদ্ধের বর্ম হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন জাসপ্রিত বুমরাহ, সুরিয়াকুমার যাদব এবং তিলক ভার্মার মতো পরীক্ষিত বিশ্বজয়ী সারথিরা। আর মুম্বাই মানে রোহিত শর্মা তো আছেনই! যাঁর উপস্থিতিই ড্রেসিংরুমের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয় বহুগুণ। এই তারকাসমৃদ্ধ দলে শিরোপার নিচে যেকোনো অর্জনই হবে এক বড় ব্যর্থতা।
নিলামের টেবিলে মুম্বাই এবার খুব বেশি হাহাকার করেনি। বরং ঠান্ডা মাথায় ঘর গুছিয়েছে। কুইন্টন ডি কককে ভিত্তি মূল্যে পাওয়াটা ছিল এক মাস্টারস্ট্রোক। সঙ্গে ট্রেডের মাধ্যমে আসা শেরফেন রাদারফোর্ড মিডল অর্ডারে জোগাবেন বাড়তি শক্তি। এছাড়া নিলাম থেকে তরুণ তুর্কি হিসেবে দানিশ মালেওয়ার, মোহাম্মদ ইজহার এবং অথর্ভ আনকোলেকরদের তুলে নিয়ে ভবিষ্যতের বীজ বুনে রেখেছে টিম ম্যানেজমেন্ট।

দলের প্রথম একাদশ প্রায় চূড়ান্ত। তবে ওপেনিংয়ে রোহিতের সাথে ডি কক নাকি রিয়ান রিকেল্টন – এই মধুর সমস্যায় পড়তে হবে কোচ জয়াবর্ধনেকে। মিডল অর্ডারে সুরিয়াকুমার আর তিলকের শৈল্পিক ব্যাটিংয়ের পর হার্দিক ও জ্যাকসের পাওয়ার হিটিং প্রতিপক্ষের জন্য ত্রাস হয়ে দাঁড়াবে।
বোলিংয়ে ট্রেন্ট বোল্টের শুরুর সুইং আর বুমরাহর ডেথ ওভারের ইয়র্কার। এই যুগলবন্দী যেকোনো ব্যাটিং লাইনআপকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। এছাড়া তরুণ অশ্বিনী কুমার বা অভিজ্ঞ শার্দুল ঠাকুরকে ‘ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করে বোলিং ধার আরও বাড়াতে পারে মুম্বাই।
তবে সবটাই যে কুসুমাস্তীর্ণ, তা নয়। বিশেষজ্ঞ দেশীয় স্পিনারের অভাব মুম্বাইয়ের জন্য এক সূক্ষ্ম কাঁটা। এছাড়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শারীরিক ও মানসিক ধকল কাটিয়ে তারকারা কতটা সতেজ হয়ে নামবেন, সেটাই দেখার। হার্দিকের নেতৃত্ব নিয়ে মাঠের বাইরের গুঞ্জন আর সমর্থকদের আবেগ সামলানোটাও হবে এক বড় পরীক্ষা।

ক্রিকেট পরিসংখ্যানের নিগড় মানে না, মানে না কাগজের দাপটও। সাম্প্রতিক কালের সেই অগোছালো স্মৃতি যেন মুম্বাইয়ের গায়ে এক গভীর ক্ষতের মতো। তবে নীল-সোনালি বাহিনী জানে কীভাবে ছাইভস্ম থেকে ফিনিক্স পাখির মতো জেগে উঠতে হয়। হারানো সাম্রাজ্য পুনরুদ্ধারের এই মহাযজ্ঞে হার্দিক কি পারবেন তাঁর তরবারি দিয়ে নতুন এক রূপকথা লিখতে?











