বাংলাদেশের দল ঘোষণা হবে আর একটা না একটা তালগোল পাকিয়ে যাবে- এটাই যেন নিয়মিত দৃশ্যে পরিণত হয়েছে। ব্যাখ্যা সহকারে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের দল ঘোষণা করা হয়েছে। যাদেরকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে তাদেরকে কিসের ভিত্তিতে সুযোগ দেওয়া হয়েছে তা উল্লেখ করা হয়েছে, উল্লেখ আছে বাদ দেওয়ার কারণও। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে ১৫ সদস্যের সেই দলে ফিনিশার কিংবা হার্ডহিটার ব্যাটার নেই একজনও।
নুরুল হাসান সোহান, জাকের আলী অনিক, শামীম হোসেন পাটোয়ারি তিনজনকেই বাদ দেওয়া হয়েছে পারফরম করতে না পারায়। খুবই ভাল সিদ্ধান্ত। তাদের পরিবর্তে আফিফ হোসেন ধ্রুবকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তার ছন্দময় পারফরমেন্সের পুরষ্কার হিসেবে। এটাও প্রশংসনীয় সিদ্ধান্ত। কিন্তু প্রশ্নটা হচ্ছে- আফিফ খেলবেন কোথায়?
আফিফ হোসেনের ক্যারিয়ার যাত্রা শুরু হওয়ার মুহূর্ত থেকেই তাকে ফিনিশার বানানোর একটা প্রয়াশ চলমান। এদফাও সেই ধারার বদল আসেনি। তাকে ধরে বেঁধে ফিনিশার বানাতে গিয়ে তার ক্যারিয়ারটাই ফিনিশ হওয়ার উপক্রম। তার সামর্থ্য নেই শেষের দিকে গায়ের জোরে বড়বড় শট খেলার। তিনি বরং ইনিংস মেরামত থেকে শুরু করে খেলাকে গভীরে টেনে নিয়ে যেতে সক্ষম। চাপের মুখে ব্যাটিং অর্ডারের হাল ধরতে পারদর্শী আফিফকে জোর করে বারবার ফিনিশার রোলে ফিট-ইন করানোর চেষ্টা চলে।

পাকিস্তানের বিপক্ষেও একই ঘটনার অবতারণা ঘটবে তা অনুমান করে নিতে বিশেষ বেগ পোহাতে হয়না। যদিও মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন আছেন। তবে মেহেদী হাসান মিরাজের কারণে অঙ্কন হয়ত একাদশে সুযোগটা পাবে না। আবার মিরাজের পক্ষেও শেষের দিকে কুইকফায়ার ইনিংস খেলা সম্ভব নয়। পাশাপাশি তিনি আছেন অফফর্মের গ্যাড়াকলে। ব্যাটিং অর্ডারে যদি প্রয়োজনীয় অস্ত্রই না থাকে, তাহলে লড়াইটা হবে কি করে?
যদিও এক্ষেত্রে মিরপুরের স্লো উইকেট সামনে আসতে পারে যুক্তি হিসেবে। যেখানে টিকে থাকাই সংগ্রাম- এমন কন্ডিশনে ফিনিশারের বিশেষ কোন কাজ নেই- এ কথা সত্য। সেই ভাবনাই হয়ত ছিল নির্বাচকদেরও। আর এখানেই শর্টটার্ম পরিকল্পনার বিষয়টি ফুটে ওঠে। বাংলাদেশ কখনোই সুদূর প্রসারী চিন্তাভাবনা করে না।
২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি সুযোগ পেতে হলে বাংলাদেশকে খেলতে হবে অনেকগুলো সিরিজ। প্রায় প্রতিটাতেই ভাল পারফরমেন্স করা বাঞ্ছনীয়। অধিকাংশ সিরিজই বাংলাদেশ নিজেদের ঘরের মাটিতে খেলবে বটে। তবে বিশ্বকাপ তো অনুষ্ঠিত হবে আফ্রিকায়। সেখানে একজন পরীক্ষিত ফিনিশার না নিয়ে যেতে পারলে যে বাংলাদেশকে খেসারত দিতে হবে তা অনুমান করে নেওয়া যায়।

মাহিদুল ইসলামই এখন একমাত্র ভরসা। তবে যার লিস্ট ‘এ’ স্ট্রাইকরেট ৭০ এর ঘরে ঘুরপাক খায়- তাকে যথাযথ ফিনিশার হতে হলে তো আমুলে বদলে ফেলতে হবে নিজেকে। কতটুকু সম্ভব সেটাও বরং একটা প্রশ্ন। এই এলোমেলো নির্বাচনের ব্যাখ্যা দাঁড় করানো মুশকিল। এমন এলোমেলোভাবেই চলছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের দিনকাল।











