পাকিস্তান ক্রিকেটের পোস্টারবয় থেকে এই মুহূর্তে দলের বোঝা বাবর আজম। দুই বছর ধরে সেঞ্চুরি নেই ওয়ানডেতে, টেস্টে সেটা বেড়ে তিন বছর— নিজের নামের পাশে কেবলই যেন হতাশা। তাই প্রশ্ন উঠেছে— ব্যর্থ বাবরকে কি বিদায় জানানোর সময় এসে গেছে?
২০২৩ সালের ৩০ আগস্ট, নেপালের বিপক্ষে ১৩৩ বলে বাবর করেছিলেন ১৫১ রান। সেসময় তাঁর ওয়ানডেতে গড় ছিল প্রায় ৬০। টি-টোয়েন্টি কিংবা টেস্টে তিনি ছিলেন পাকিস্তানের বড় ভরসা।
এরপর পেরিয়ে গেছে ৭১৫ দিন। ওয়ানডেতে বাবরের সেঞ্চুরি দূরে থাক, ম্যাচ জেতানোর মত ইমপ্যাক্টফুল ইনিংসও খেলতে পারেননি। গেল দুই বছরে তাঁর ব্যাটিং গড়টা নেমে এসেছে ৩৩-এ। টপ অর্ডার ব্যাটারের মানদণ্ডে যা একদমই বেমানান।

টেস্ট ক্রিকেটে অবস্থাটা আরও বেশি ভয়াবহ। শেষ ২০২২ সালের ডিসেম্বরে ছুঁয়েছিলেন তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার। তিন বছর পেরিয়ে গেলেও আর সেঞ্চুরি খরা কাটাতে পারেননি তিনি। ২০২৩ থেকে এখন পর্যন্ত টেস্টে বাবরের রান ৫৯০, যেখানে ব্যাটিং গড় ২২। এমন একজনকে ক্রিকেটের এই বনেদি ফরম্যাটে নিশ্চয় রাখাটা শোভনীয় নয়।
টি-টোয়েন্টির চিত্রটাও একরকম। ২০২৪ সালের বিশ্বকাপে এই ফরম্যাটে ফিরে পেয়েছিলেন অধিনায়কত্বের দায়িত্বভার। তবে সেটাই যেন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল পাকিস্তানের জন্য। আসরজুড়ে ১০১ স্ট্রাইক রেটে বাবর করেছিলেন ১২২ রান। তাঁর দলও বাদ পড়েছিল গ্রুপ পর্বেই।
দলের যখন গুরুত্বপূর্ণ সময়, তখনই বাবর বারবার হতাশ করেছেন। হাল ধরার পরিবর্তে দলকে মাঝপথে আরও বিপদে ফেলে চলে এসেছেন। বিশ্বের অন্যান্য নামজাদা সব ব্যাটারদের সাথে তাঁর পার্থক্যটা এখানেই। মূলত মানসিক চাপ সামলানোর ঘাটতি থেকেই এমন সমস্যার উৎপত্তি।

টি-টোয়েন্টি দলে জায়গা হারিয়েছেন আগেই। ওয়ানডে কিংবা টেস্টে ফর্মহীনতায় ভুগছেন তিনি। এমন ব্যর্থতার বৃত্তে আটকা পড়া বাবরের ফেরার অপেক্ষা কি করবে পাকিস্তান দল? নাকি আরও এক সাহসী সিদ্ধান্ত আসবে বোর্ড থেকে, বাবরের নাম যাবে বাতিলের খাতায়?
তাঁকে সরিয়ে দেওয়া ছাড়া উপায় বা আর কি আছে! পাকিস্তানের এই মুহূর্তে যে সমাধান দরকার। ব্যর্থ বাবরকে বিদায় দিয়ে নতুন বিকল্প খুঁজে বের করা যে বড্ড বেশি প্রয়োজন।











