জয়াসুরিয়ার বন্ধু, সাকিবের শত্রু!

ম্যাচ শেষেও সাকিব আম্পায়ারের ‘পক্ষপাতিত্ব’ মেনে নেননি। অন ফিল্ড আম্পায়ার হিসেবে মাঠে ছিলেন রুচিরা। জয় উদযাপন করে আঙুল তাক করে রুচিরাকে ম্যাচ শেষে কি যেন বলেন সাকিব, ক্যামেরায় সেটা ধরাও পড়ে।

রুচিরা পালিয়াগুরুগে – এই নামটা বাংলাদেশি কারও মনে থাকার কথা নয়। তবে, শ্রীলঙ্কা থেকে ১৫-১৬ হাজার কিলোমিটার দূরে থাকা একজন এই নামটা শুনলে হঠাৎ করেই ক্ষেপে উঠতে পারেন।

ক্ষেপে যাওয়া সেই মানুষটা হলেন সাকিব আল হাসান। শ্রীলঙ্কান এই আম্পায়ার ক্যারিয়ারজুড়ে সাকিবকে কম ভোগাননি। সাকিবকে এখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অতীত ধরে নেওয়া যায়। তিনি না থাকলেও দিব্যি আছেন রুচিরা। কলম্বোর রানাসিংহে প্রেমাদাসা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনন্য এক কীর্তিও গড়ে ফেললেন।

মাত্র তৃতীয় লঙ্কান আম্পায়ার হিসেবে শততম ওয়ানডে ম্যাচে দায়িত্ব পালন করলেন এই আম্পায়ার। মজার ব্যাপার হল, রুচিরা নাকি এক সময় প্রতিভাবান অলরাউন্ডার ছিলেন।

মাতারার সেন্ট সার্ভেটিয়াস কলেজে খেলতেন তিনি। বল হাতে ইনিংসের সূচনা করতেন, ব্যাট হাতেও নামতেন ওপেনার হিসেবে। দুই জায়গাতেই তাঁর সাথে আক্রমণের উদ্বোধনে জুটি বাঁধতেন খোদ সনাথ জয়াসুরিয়া। হ্যাঁ, জয়াসুরিয়া তখন পেস বোলার ছিলেন।

সাকিব আল হাসানের কল্যানে রুচিরা সর্ব প্রথম চক্ষূশ্যূল হন ২০১২ সালের এশিয়া কাপে। হাফ সেঞ্চুরি থেকে সাকিব যখন মাত্র এক রান দূরে তখন, রবীচন্দ্রন অশ্বিনের বলে একটা বিতর্কিত স্ট্যাম্পিংয়ের সিদ্ধান্ত দেন রুচিরা। ম্যাচটা শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ জিতে গেলেও, সেবার এই ইস্যু নিয়ে কম জল ঘোলা হয়নি।

কাট টু ২০১৮। নিদাহাস ট্রফির ম্যাচ। বাংলাদেশ বনাম শ্রীলঙ্কা। অন্তিম মুহূর্তে, একটা নো-বল উত্তাল হল এই আর প্রেমাদাসার ময়দান। ক্রিজে তখন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, বাংলাদেশের লক্ষ্য সহজ ছিল না।

নো-বলের সিদ্ধান্ত বিপক্ষে যাওয়ায় অধিনায়ক সাকিব ক্ষোভ প্রকাশ করলেন মাঠেই, দলকে মাঠ থেকে তুলেও পর্যন্ত নিতে চাচ্ছিলেন। শেষ পর্যন্ত ম্যাচ রেফারির মধ্যস্ততায় ম্যাচটা আবার শুরু হয়।

ভাগ্যিস আবারও ম্যাচ শুরু হয়। ইসুরু উদানাক ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগের ‍ওপর দিয়ে উড়িয়ে মেরে ছক্কা হাকান রিয়াদ, বাংলাদেশ চলে যায় নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে।

ম্যাচ শেষেও সাকিব আম্পায়ারের ‘পক্ষপাতিত্ব’ মেনে নেননি। অন ফিল্ড আম্পায়ার হিসেবে মাঠে ছিলেন রুচিরা। জয় উদযাপন করে আঙুল তাক করে রুচিরাকে ম্যাচ শেষে কি যেন বলেন সাকিব, ক্যামেরায় সেটা ধরাও পড়ে। বাংলাদেশের ক্রিকেট ভক্তদের কাছে রুচিরা বরাবরই ‘ভিলেন’, তা তিনি যত মাইলফলকই ছুঁয়ে ফেলুন না কেন!

প্রেমাদাসায় পালিয়াগুরুগে ঘিরে আয়োজন ছিল, বিশেষ ক্রেস্ট হাতে নিলেন। এই প্রেমাদাসাই তো সাকিব-পালিয়াগুরুগের ডুয়েল দেখেছিল। ভাগ্যিস, সাকিব এবার নেই!

লেখক পরিচিতি

সম্পাদক

Share via
Copy link