ত্রিশ বছর বয়সে জন্ম

ক্রিকেট মানচিত্রে যখন কোনো তরুণের জয়গান গাওয়া হয়, তখন সাধারণত দৃশ্যপটে থাকে বিশ-বাইশ বছরের কোনো উজ্জ্বল তুর্কি। কিন্তু সুরিয়াকুমার যাদবের গল্পের প্রেক্ষাপটটা একটু ভিন্ন। সূর্য যেমন মাঝদুপুরেই সবচেয়ে বেশি তেজ দেখায়, ঠিক তেমনই সুরিয়াও ত্রিশ পেরিয়েই করলেন একে একে গোটা বিশ্ব জয়। যখন কিনা সাধারণ নিয়মে অনেকের ক্যারিয়ারে গোধূলির ছায়া নামার কথা।

ক্রিকেট মানচিত্রে যখন কোনো তরুণের জয়গান গাওয়া হয়, তখন সাধারণত দৃশ্যপটে থাকে বিশ-বাইশ বছরের কোনো উজ্জ্বল তুর্কি। কিন্তু সুরিয়াকুমার যাদবের গল্পের প্রেক্ষাপটটা একটু ভিন্ন। সূর্য যেমন মাঝদুপুরেই সবচেয়ে বেশি তেজ দেখায়, ঠিক তেমনই সুরিয়াও ত্রিশ পেরিয়েই একে একে করলেন গোটা বিশ্ব জয়। যখন কিনা সাধারণ নিয়মে অনেকের ক্যারিয়ারে গোধূলির ছায়া নামার কথা।

ঘরোয়া ক্রিকেটে একের পর এক অনিয়ম এবং উগ্র আচরণের জন্য সুরিয়ার ক্যারিয়ার যেন মরতে বসেছিল। বয়সটা ত্রিশ ছুঁই ছুঁই হলেও জাতীয় দলে আসার নাম মাত্র নেই। এক সাক্ষাৎকারে বলেন ২৯ বছর বয়সেও তার বাবা সবসময় ভারতের ‘এ’ দলের স্কোয়াড ঘোষণা দিলে ওয়েবসাইটে স্বীয় পুত্রের নাম খুজঁতেন। কিন্তু কোনোবারই পেতেন না। আক্ষেপ মিশ্রিত সুরে বলতেন ‘এবারও তোর নাম নেই রে’।

অবশেষে বয়সটা যখন ত্রিশ। ২০২১ সালে ভারতের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হয় সুরিয়ার। অভিষেকের প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকিয়ে নিজের আগমনী বার্তা জানান দেন তিনি। সেই থেকেই ফরম্যাটটাকে সময়ের সাথে সাথে যেন আপন করে নিয়েছেন।

৩১ বছর বয়সে ট্রেন্ট ব্রীজে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হাঁকান প্রথম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি শতক। ধারাবাহিকতা বজায় রেখে প্রথম এশিয়ান ব্যাটার হিসেবে নয় শতাধিক রেটিং পয়েন্ট নিয়ে আইসিসি টি-টোয়েন্টি ব্যাটসম্যানের র‍্যাংকিং তালিকায় সবার উপরের নিয়ে যান নিজের নাম।

একই বছরে নিজের ঝুলিতে তুলেন আইসিসির বর্ষসেরা টি-টোয়েন্টি খেলোয়াড়ের তকমা। পরের বছরও তা নিজের কাছেই রাখেন সুরিয়া।  কুড়ি ওভারের এই ফরম্যাটটায় তিনি কতটা দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন তা পরিসংখ্যানের দিকে দৃষ্টিপাত করলেই স্পষ্টত হয়। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ১০৭ ইনিংস শেষে ৩৬.৩৬ গড়ে ৩২৭২ রান করেছেন তিনি। স্ট্রাইকরেটটাও ১৬৩ প্রায়!

৩৩ বছর বয়সে এসে পেয়েছেন ভারতের টি-টোয়েন্টি  দলের গুরুদায়িত্ব। নেতৃত্বের পুরোটা অধ্যায় জুড়ে ভারতকে রেখেছেন র‍্যাংকিং তালিকার সবার উপরে। এমনকি একটি সিরিজেও বরণ করতে হয়নি পরাজয়। ৩৪ বছর বয়সে হয়েছেন এশিয়াকাপ জয়ী অধিনায়ক।

আর বয়সটা যখন ৩৫, তখন তো করে দেখালেন বিশ্বজয়। সুরিয়ার নেতৃত্বেই প্রথম বারের মতো টানা দুইবার টি-টোয়েন্টিতে বিশ্ব জয় করা দেখল সবাই।

সুরিয়া আমাদের শিখিয়ে দিলেন, সূর্যোদয় ভোরে হোক কিংবা দুপুরে, আকাশ রাঙানোর ক্ষমতা যার আছে, দিন শেষে জয়টা তারই হয়। প্রদীপের নিচেই যেমন অন্ধকার থাকে, তেমনি অন্ধকারের বুক চিরে ফুঁড়ে বের হওয়া এই ‘সূর্য’ এখন বিশ্বক্রিকেটের আকাশে এক ধ্রুবতারা হয়ে জ্বলছে।

লেখক পরিচিতি

ক্রীড়াচর্চা হোক কাব্য-কথায়!

Share via
Copy link