অভিষেক শর্মা এবং শুভমান গিল ভারত টি–টোয়েন্টি দলে নতুন ওপেনিং জুটির নাম। তবে এই জুটির সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব মাঠের বাইরেও নিজেদের বোঝাপড়াটা দারুণ। শৈশবের বন্ধুত্ব, বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে একসাথে বেড়ে ওঠা, আর এখন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে জাতীয় দলের হয়ে ওপেন করা— এই জুটি যেন রোমাঞ্চকর এক অধ্যায় লিখছে।
পাঞ্জাবের এই দুই ক্রিকেটার অনূর্ধ্ব–১৪ থেকেই একসাথে ওপেন করতেন। সেসময় কোচ অরুণ বেদি তাঁদের মধ্যে খুঁজে পেয়েছিলেন অন্যরকম কিছু। বেদি মজা করে দুজনকে নিয়ে বলতেন, একজন শান্ত, আরেকজন ভীষণ দুষ্টু। মাঠেও অবশ্য এই কথার প্রতিচ্ছবি দেখা যায়— গিলের ঠাণ্ডা মাথার ব্যাটিং আর অভিষেকের আগ্রাসী শট, একে অপরকে একপ্রকার পরিপূর্ণ করে তোলে।
অরুণ বেদি এই দুই তারকাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করলেন। এক ম্যাচের ঘটনা আজও মনে রেখেছেন তিনি। গিলের বয়স তখন ছিল ১৩ আর অভিষেকের ১২। মাঠে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন অভিষেক, ডেপুটি হিসেবে ছিলেন গিল। লিগ পর্বে হিমাচলের বিপক্ষে দুই দিনের ম্যাচে ১০ রানের লিড নিয়েছিল প্রতিপক্ষ, হাতে ছিল ৬ উইকেট। দ্বিতীয় দিনের টি–ব্রেকে বেদি বলেছিলেন, ‘এবার তো আমরা হারব।’

কিন্তু বিরতির পর অভিষেক–শুভমান এসে বলেন, ‘স্যার, আমরা কেন হারব?’ এরপরই বদলে যায় দৃশ্যপট, প্রথম ওভারেই অভিষেক নেন উইকেট, তারপর আগ্রাসী বোলিং–ফিল্ডিংয়ে অলআউট হয়ে যায় হিমাচল, লক্ষ্য দাঁড়ায় ৯০ রানের। ১০ ওভারে সেই রান তোলার টার্গেট দেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু গিল–অভিষেক সেটা করে ফেলেন মাত্র ৭ ওভারে। বেদি বলেন, ‘আমি অবাক হয়েছিলাম এত ছোট বয়সে এভাবে ভাবতে পারা দেখে!’ ম্যাচ শেষে দুইজনের বাবার কাছে বেদি ফোন দিয়ে বলেছিলেন, তাঁদের ছেলেরা ভারতীয় দলে খেলবে।
সবচেয়ে বিখ্যাত গল্প অবশ্য গিলের ব্যাট নিয়ে। অভিষেক শর্মার প্রথম আন্তর্জাতিক টি–টোয়েন্টি সেঞ্চুরি এসেছিল ২০২৪ সালে, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে— গিলের ব্যাট ব্যবহার করে। অভিষেক নিজেই স্বীকার করেছেন, যখনই রান দরকার হয়, তিনি গিলের ব্যাট চান। আর মজার ব্যাপার, গিল নাকি একসময় মজা করে বলেছিলেন— ‘অভিষেকের সব রান তার নামে লেখা উচিত!’

ছেলেবেলার সেই খুনশুটি এখনও ফুরিয়ে যায়নি। নতুন উদ্যমে আবারও যে মাঠে নামছেন তাঁরা। কাঁধে জাতীয় দলের ওপেনিং সামলানোর গুরুদায়িত্ব। যদিও ব্যাট হাতে তাঁদের মিল পাওয়া দুষ্কর, একজন বরফের মতো শান্ত, আরেকজন আগুনের মতো তেজশ্বী। তবে একসাথে ব্যাট হাতে জ্বলে উঠলে প্রতিপক্ষের জন্য দিনটা সুখকর হওয়ার কথা নয়।











