মহসিন নাকভির হাত থেকে ট্রফি নিতে চাইবেন সুরিয়া?

যে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের সাথে হাতই মেলাতে রাজি নন ভারতের ক্রিকেটাররা, সেই দেশের আরেকজন নাগরিকের হাত থেকে ট্রফি নেওয়াটা কি শোভা দেবে? কিংবা ভারতের একার জন্য কি নিজেদের প্রটোকল ভাঙবে এসিসি?

হ্যান্ডশেকে আপত্তি থাকলেও ট্রফি হাতে নিতে কোনো আপত্তি থাকার কথা নয় ভারতীয় ক্রিকেট দলের। কিন্তু, প্রশ্ন হল – ভারতীয় অধিনায়ক সুরিয়াকুমার যাদব কি আদৌ মহসিন নাকভির হাত থেকে ট্রফি হাতে নিতে রাজি হবেন?

মহসিন নাকভি হলেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান। আর এই মুহূর্তে তিনি এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে, প্রটোকল অনুযায়ী, এশিয়া কাপ জয়ী অধিনায়ককে ট্রফি তুলে দেওয়ার দায়িত্বভারও তাঁকেই নিতে হবে।

ভারত নি:সন্দেহে শিরোপা জিততেই এসেছে আরব আমিরাতের মাটিতে। এমনকি, এশিয়া কাপে রানার আপ হলেও সেটাকে তাঁদের ব্যর্থতা হিসেবেই দেখা হবে। কিন্তু, যে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের সাথে হাতই মেলাতে রাজি নন ভারতের ক্রিকেটাররা, সেই দেশের আরেকজন নাগরিকের হাত থেকে ট্রফি নেওয়াটা কি শোভা দেবে? কিংবা ভারতের একার জন্য কি নিজেদের প্রটোকল ভাঙবে এসিসি?

ভারত-পাকিস্তান মাঠের লড়াই আগের মত জমে না। আজকাল পাকিস্তান আর পাত্তাই পায় না। গ্রুপ পর্বে ১৬ ওভারের মধ্যে সাত উইকেটের বড় জয় পেয়েছে ভারত। তবে, ম্যাচের পুরোটা আগুন জমা ছিল ভারতের জয়ের পর, হাত না মিলিয়ে মাঠ ছাড়েন সুরিয়াকুমার যাদরব।

অধিনায়ক সালমান আলী আঘার নেতৃত্বে অপেক্ষায় ছিল পাকিস্তান দল  ভারত তাঁদের মুখের ওপরই ড্রেসিংরুমের দরজা বন্ধ করে দেন। ম্যাচ শেষে সুরিয়া বলেন, পাকিস্তানকে উচিৎ শিক্ষা দেওয়া গেছে। সব জায়গায় সৌজন্যতা চলে না।

ক্রিকেট ভদ্রলোকের খেলা। হ্যান্ডশেক সেই ভদ্রলোকের খেলায় সৌজন্যতার প্রতীক। কিন্তু, আইসিসির রুল বুকে হাত মেলানোকে বাধ্যতামূলক করা হয়নি।

জানা যায়, হাত না মেলানোর সিদ্ধান্ত ছিল কোচ গৌতম গম্ভীরের মাস্টাত প্ল্যানের অংশ। তিনি অধিনায়ককে সাথে নিয়ে ম্যাচের আগেরদিন বিশেষ বৈঠক করেন খেলোয়াড়দের সাথে, দলকে দেশের হয়ে লড়ে জয় নিয়ে ফিরতে উজ্জীবিত করেন।

নো-হ্যান্ডশেক কাণ্ডে সরব হয় পিসিবি। খোদ সভাপতি মহসিন নাকভি অ্যান্ডি পাইক্রফক্টের অপসারণ দাবি করেন। এমনকি না সরিয়ে দিলে পাকিস্তান আরব আমিরাতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করবে বলেও গুঞ্জন আছে।

এই অবস্থায় ভারতের অন্দরমহলের খবর বলছে, ফাইনালে তাঁরা ট্রফি নেওয়া তো দূরের কথা, মহসিন নাকভিকে পুরস্কার মঞ্চেই চায় না। পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে তাঁরা চায় না।

ইউক্রেন-রাশিয়া বা আমেরিকা-ইরানের ফুটবল ম্যাচের ক্ষেত্রেও এরকম রেষারেষি দেখা গেছে। তবে, এবারের বিরোধ অনেক দূর গিয়ে গড়াবে। বিশ্বের চোখ এখন এশিয়া কাপে, পপকর্ণ হাতে সবাই অপেক্ষায়, ভারত যদি শিরোপা জিতে যায় – তবে কি নতুন দিকে মোড় নেবে ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্ব?

Share via
Copy link