অপরাজেয় ভারতকে পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ দিল দক্ষিণ আফ্রিকা। ভারতের বুকে দাঁড়িয়ে ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রতিশোধটা তুলে নিল প্রোটিয়ারা। ভারতকে একেবারে নাস্তানাবুদ করে ছেড়েছে এইডেন মার্করামের দল। ৭৬ রানের পরাজয়ে শঙ্কায় পড়ে গেল ভারতের টানা দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা।
টসে জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত দক্ষিণ আফ্রিকার। এই একটা পন্থা ছিল অপ্রতিরোধ্য ভারতকে হারানোর। স্কোরবোর্ডে বড় রান তুলে, ভারতকে চাপে ফেলার চেষ্টা করা। সেই যাত্রায় শেষ অবধি দক্ষিণ আফ্রিকা সফল হলেও, শুরুটা হয়েছিল শঙ্কা জাগানিয়া। ২০ রান তুলতেই প্রোটিয়াদের টপ অর্ডার ফেরে প্যাভিলিয়নে।
সেখান থেকে বিপর্যয় সামাল দেন ডেভিড মিলার। সাথে সঙ্গ দেন ডেওয়াল্ড ব্রেভিস। দুই জনে মিলে গড়েন ৫১ বলে ৯৭ রানের জুটি। মিলার ফিফটি করলেও, ব্রেভিস করতে পারেননি। এরপর শেষ দিকে ট্রিস্টান স্টাবস ঝড় তোলেন ব্যাট হাতে। ইনিংসের শেষ ওভারে তিনি আদায় করেন ২০ রান- হার্দিক পান্ডিয়াকে তুলোধুনো করে।

জাসপ্রিত বুমরাহ এদিন তিন উইকেট নিয়েছিলেন ১৫ রানের বিনিময়ে। তাতে অবশ্য প্রোটিয়াদের রান তোলার গতিতে বাঁধা দেওয়া সম্ভব হয়নি ভারতের পক্ষে। সাত উইকেট হারিয়ে ১৮৭ রান তোলে এইডেন মার্করামের দল। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ঈশান কিষাণের দ্রুত বিদায়ে বিপাকে পড়ে ভারত।
সেখান থেকে আর পরিত্রাণ পাওয়া হয়ে ওঠেনি টিম ইন্ডিয়ার। পাঁচ রানে দুই উইকেট হারিয়ে ভারতের মনে ভয়ের সঞ্চার ঘটে। সেই ভয়কে আর জয় করার সুযোগ দেননি মার্কো ইয়ানসেনরা। ইয়ানসেন একাই বাগিয়েছেন চার খানা উইকেট। তবে শিভাম দুবেকে সঙ্গে নিয়ে হার্দিক পান্ডিয়া শেষ একটা চেষ্টা করতে চেয়েছিলেন।
কিন্তু কেশভ মহারাজ এক ওভারেই তুলে নেন তিন উইকেট। ট্রিস্টান স্টাবস এদিন সামনে এলেন উড়ন্ত বাজপাখি হয়ে। কেশভের তিন উইকেট প্রাপ্তির তিন খানা ক্যাচই তিনি করেছেন তালুবন্দী। সেখানেই পরাজয় লেখা হয়ে যায় ভারতের নামে। স্রেফ ১১১ রান অলআউট ভারত। এমন দৃশ্য বড্ড অচেনা।

কেননা ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে মোট ১২টি বিশ্বকাপ ম্যাচে অপরাজিত ছিল ভারত। ভারতের সেই অপরাজেয় দূর্গকে জয় করে নিল দক্ষিণ আফ্রিকা। ভারতের মাটিতে ভারতকে কোণঠাসা করে জয় তুলে নেওয়া মোটেও নয় চাট্টিখানি কথা। এ যেন ২০২৪ বিশ্বকাপ হারের এক মধুর প্রতিশোধের রুপকথা।











