৫ বলে প্রয়োজন ১০ রান, দুই বলে দুই চার মেরে সেই সমীকরণ নামিয়ে আনলেন ৩ বলে ২; তাতেই বাইশ গজে এমন উদযাপন করলেন মুশফিকুর রহিম, মনে হয়েছিল বাংলাদেশ বুঝি জিতে গিয়েছে। কিন্তু, পরের বেদনাদায়ক গল্পটা সবারই জানা। আট বছর আগের সেই স্মৃতি আরো একবার ফিরলো ক্রিকেটপ্রেমীদের; ফিরিয়ে আনলেন গৌতম গম্ভীর আর বিরাট কোহলি।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে, শিভাম দুবে দলকে জয়ের একদম নাগালে নিয়ে এসেছিলেন। চারিথ আসালাঙ্কাকে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে সমতায় পৌঁছে গিয়েছিলেন তিনি, স্রেফ এক রানের আনুষ্ঠানিকতা বাকি। স্বাভাবিকভাবেই তখন জয় উদযাপনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে টিম ইন্ডিয়া। কোহলি নিজের আসন থেকে দাঁড়িয়ে করতালি দেন, সেই সাথে হাসতে থাকা গম্ভীররে পিঠ চাপড়ে দেন।
কিন্তু বিপত্তি বাঁধে এরপরই, হুট করে এলবিডব্লুর ফাঁদে পড়েন দুবে; আম্পায়ার আউট না দিলেও রিভিউ নিয়ে উইকেট তুলে নেয় লঙ্কানরা। নবম উইকেটের পতন হলেও, ভারতের জয়ের সম্ভাবনাই বেশি ছিল সে সময়। উত্তেজনায় হোক কিংবা মাঠে দৌড় দেয়ার জন্য, দলটির প্রায় সবাই তখন উঠে দাঁড়িয়ে গিয়েছিলেন।
তবে আর্শ্বদীপ সিং স্রেফ বোকামি করে বসলেন, ১৪ বলে ১ রান প্রয়োজন অথচ তিনি বড় শট খেলতে চান। ফলাফল, আউট! স্বস্তির হাসি হাসতে থাকা ভারতীয় ড্রেসিংরুম তখন একই সাথে হতভম্ব আর বেদনার্ত। তাঁরা আসলে বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না কি হলো মাঠে।
ক্রিকেট অনিশ্চয়তার খেলা এজন্যই; শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়, ছোটখাটো ভুল করারও কোন সুযোগ নেই। ভারতের জন্য অবশ্য এটা ভাল শিক্ষা; লোয়ার মিডল অর্ডার যেভাবে ধসে পড়েছে তা নিশ্চয়ই প্রত্যাশিত ছিল না। এর মধ্যে নিজেদের ওয়ানডে ইতিহাসে দশম ড্রয়ের স্বাদ পেলো ভারত; তাঁদের চেয়ে বেশি ড্র করার রেকর্ড আছে কেবল ওয়েস্ট ইন্ডিজের।
নিজেদের ব্যাটিং নিয়ে রোহিত শর্মা পরবর্তীতে বলেন, ‘রান নাগালেই ছিল, আমাদের শুধু ভাল ব্যাটিং করতে হতো। শুরুটা ভালো হয়েছিল; কিন্তু এরপর দ্রুত কিছু উইকেট হারাই, যার ফলে পিছিয়ে পড়ি আমরা।’