কেশভ মহারাজ, একাই একশো

দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্ট ম্যাচের তৃতীয় দিন চলমান, ব্যাট বলের লড়াই ছাপিয়ে জিততে মরিয়া হয়ে উঠেছিল বৃষ্টি। যদিও শেষমেশ খেলা হয়েছে অনেকটা সময়, আর সেখানে চমক দেখিয়েছেন কেশভ মহারাজ। না, একের পর এক উইকেট নিয়ে তিনি কি ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন? ব্যাপারটা কিন্তু তা নয়, বরং একটানা বল করেই শিরোনাম হয়েছেন তিনি।

তৃতীয় দিনে প্রোটিয়া অধিনায়ক বোধহয় পণ করেছিলেন মহারাজকে দিয়েই বল করাবেন সারাক্ষণ। তাই তো উইন্ডিজ ইনিংসের তেরোতম ওভারে বল হাতে নিয়েছিলেন এই স্পিনার, তারপর আর বিশ্রামের সুযোগ পাননি।

এক স্পেলে টানা ২৮ ওভার বল করতে হয়েছে তাঁকে। বারবার আবহাওয়ার বাঁধা ডিঙিয়ে মিডিয়া সেন্টার এন্ড থেকে লাগাতার প্রতিপক্ষের পরীক্ষা নিয়েছেন তিনি। এমন পরিশ্রম আহামরি ফলাফল এনে দিতে না পারলেও দিন শেষে স্বস্তি পেয়েছেন ঠিকই। তাঁর ২৮ ওভার থেকে মাত্র ৪৫ রান নিতে পেরেছেন ক্যারিবীয় ব্যাটাররা, বিনিময়ে ঝরেছে তিন উইকেট।

সবমিলিয়ে তৃতীয় দিন শেষে স্বাগতিকদের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ১৪৫ রান; প্রোটিয়াদের চেয়ে ২১২ রান পিছিয়ে আছেন তাঁরা। অবশ্য পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারতো; ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট রান আউটে কাটা পড়েছেন আর মহারাজের ঝুলিতে ঢুকেছে তিন উইকেট।

দক্ষিণ আফ্রিকার বাকি বোলাররা কোন উইকেট পাননি, পেলে নিশ্চয়ই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এককভাবে পেতে পারতো দলটি। যদিও এখনো এগিয়ে আছে টেম্বা বাভুমার বাহিনী, কিন্তু বৃষ্টি বাধায় ম্যাচের ফলাফল পাওয়া যাবে কি না তা নিয়ে রয়েছে সংশয়।

সবমিলিয়ে আর হয়তো ১৯৫ থেকে ২০০ ওভার বাকি রয়েছে; অথচ ম্যাচের অর্ধেক বাকি এখনো। তবে জয় পরাজয় ছাপিয়ে লাইমলাইটে এসেছে কেশভ মহারাজের ধৈর্য আর লম্বা সময় ধরে নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামর্থ্য।

নেপালে সাকিব-মাহেদীর অম্লমধুর শুরু

একজনের শুরুটা হয়েছিল প্রায় বিদায়ের দুয়ারে দাঁড়িয়ে, অন্যজনের ব্যাটে জমেনি প্রত্যাশার রং। অথচ দিনের শেষে দুজনেরই নাম উঠল পারফরম্যান্সের খাতায়। শেখ মেহেদী হাসান ব্যাট হাতে ২১ বলে ৩২ রানের ঝোড়ো ইনিংসে হিমালয়ের দেশ কাঁপালেন, আর সাকিব আল হাসান বল হাতে চার ওভারে ২৪ রান দিয়ে তুলে নিলেন একটি উইকেট। নেপাল প্রিমিয়ার লিগে পোখারা অ্যাভেঞ্জার্সের জার্সিতে বাংলাদেশের দুই অলরাউন্ডারের অভিষেকটা হলো এমনই! তবে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের এই প্রাপ্তি শেষ পর্যন্ত ম্লান হলো দলের পরাজয়ে। ১৪৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ১৬.৫ ওভারেই জয় নিশ্চিত করে প্রতিপক্ষ সুদূর পশ্চিম রয়্যালস, জিতল ৬ উইকেটে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Share via
Copy link