বিগ ব্যাশ লিগে ব্যাট হাতে মাঠে নেমেই স্টিভেন স্মিথ দেখিয়ে দিলেন কুড়ি ওভারের ফরম্যাটটাতেও তিনি কতটা দক্ষ। শুক্রবার রাতে সিডনি সিক্সার্সের হয়ে মাত্র ৪১ বলে এক অনবদ্য শতক হাঁকিয়ে তিনি জায়গা করে নিয়েছেন রেকর্ড বুকে। আইপিএলে দল না পাওয়া স্মিথ যেন এই ইনিংস দিয়ে আবারও নতুন করে জানান দিলেন, বলের রঙ বদলালেও স্মিথের পারফরম্যান্স থেমে থাকে না।
এটি ছিল বিগ ব্যাশের ইতিহাসে স্মিথের চতুর্থ শতক। এর মধ্য দিয়ে তিনি সর্বকালের তালিকায় ডেভিড ওয়ার্নার ও বেন ম্যাকডারমটকে ছাড়িয়ে এককভাবে শীর্ষে উঠে গেলেন।
ইনিংসের ১২ তম ওভারে রায়ান হ্যাডলির বিপক্ষে স্মিথ যেন হয়ে ওঠেন অপ্রতিরোধ্য। এই ওভারেই তুলে নেন ৩২ রান। যা বিগ ব্যাশ লিগের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল ওভার হিসেবে জায়গা করে নেয়।

অথচ এর কয়েক সপ্তাহ আগেই, ২০২৬ মৌসুমের আইপিএলের নিলামে দুই কোটি রুপি ভিত্তিমূল্যে নাম তুলেও অবিক্রীত থাকতে হয়েছিল তাঁকে। ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিকে বিদায় জানানোর পর অনেকেই ভেবেছিলেন, হয়তো সংক্ষিপ্ত সংস্করণে স্মিথের সময় বুঝি শেষ হয়ে এলো। তবে এই রাতে সেই ধারণাকে যেন তিনি একেবারেই উড়িয়ে দিলেন।
ম্যাচের আগে পর্যন্ত স্মিথ ও বেন ম্যাকডারমট দুজনেরই বিগ ব্যাশে শতক ছিল তিনটি করে। একই ম্যাচের প্রথম ইনিংসে সিডনি থান্ডারের অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নারও নিজের তৃতীয় শতক হাঁকিয়ে তাঁদের সঙ্গে শীর্ষে যোগ দেন। কিন্তু সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ১৯০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে স্মিথের দুর্দান্ত এই শতকই পার্থক্য গড়ে দেয়, ফলে তিনি এককভাবেই সেই রেকর্ডের মালিক হয়ে যান।
সিডনি সিক্সার্সের জার্সিতে স্মিথের পরিসংখ্যানও বেশ ঈর্ষণীয়। ২০১১ সাল থেকে এই দলে খেলে তিনি ৩৫ ইনিংসে ৪৮.৮১ গড়ে করেছেন ১,৩১৮ রান। স্ট্রাইক রেটটাও প্রায় ১৫১! এর সঙ্গে আছে চারটি শতক এবং আটটি অর্ধশতক। বিগ ব্যাশে স্মিথ খুব একটা নিয়মিত নন। গত পাঁচ বছরে স্রেফ ১১টি ইনিংস খেলেছেন। এই সময়ে যখনই তিনি মাঠে নেমেছেন, তখনই ব্যাট হাতে নিজেকে বানিয়ে ফেলেছেন হাইড্রোজেন বোমা। ১৭৭.৪১ স্ট্রাইকরেটে ৬৯৯ রান নিজের নামের পাশে জুড়ে নিয়েছেন তিনি।











