কোন পথে হাঁটছেন তামিম?

আজিজুল হাকিম তামিম কি যশস্বী জয়সওয়াল হবেন, নাকি তামিম ইকবালের দেখানো পথে হাঁটবেন? প্রশ্নটা কিছুটা অবাক করার মতোই, তবে তারচেয়ে বেশি অবাক করবে আজিজুলের বদলে যাওয়া। রান করছেন ঠিকই তবে তা যেন দলের ক্ষতিই বেশি করছে। ভবিষ্যৎ তারকা বনে যাওয়া উদীয়মান ক্রিকেটার সম্পর্কে এমন কথা এক সংকেত বার্তাই বটে।

আজিজুল হাকিম তামিম কি যশস্বী জয়সওয়াল হবেন, নাকি তামিম ইকবালের দেখানো পথে হাঁটবেন? প্রশ্নটা কিছুটা অবাক করার মতোই, তবে তারচেয়ে বেশি অবাক করবে আজিজুলের বদলে যাওয়া। রান করছেন ঠিকই তবে তা যেন দলের ক্ষতিই বেশি করছে। ভবিষ্যৎ তারকা বনে যাওয়া উদীয়মান ক্রিকেটার সম্পর্কে এমন কথা এক সংকেত বার্তাই বটে।

৮৭ বলে ৫৯ রানের ইনিংস খেললেন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। ছয়টা চার আদায় করেছেন শুধু। স্ট্রাইক রেট ৬৭। এই ইনিংসটাকে কিভাবে বর্ণনা করবেন? ভালো নাকি বিপদজ্জনক? উত্তর দেওয়ার আগে একটু পেছন থেকে শুরু করা যাক।

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে চার ম্যাচের তিনটিতে ফিফটি হাঁকিয়েছেন তামিম। ভারতের বিপক্ষে করেছিলেন ৭২ বল খেলে ৫১ রান। সে ম্যাচে বৃষ্টিটা কাল হয়ে আসে বাংলাদেশের জন্য। তবে আরও একটা জিনিসই খুব নীরবে দলকে ম্যাচ থেকে বের করে দিয়েছিল সেটা ওই তামিমের মন্থর গতির ব্যাটিং।

বৃষ্টি আসার আগ পর্যন্ত তামিমের ব্যাটে আসে ৩৩ রান। বল খেলেছিলেন ৫৫টি। ২৩৯ রানের টার্গেটে নামা বাংলাদেশের রান তখন দুই উইকেট হারিয়ে ৯০। বৃষ্টির পর বাংলাদেশকে লক্ষ্যমাত্রা বেধে দেওয়া হয়, ২৯ ওভারে ১৬৫। এর আগেই বাংলাদেশ খেলে ফেলেছিল ১৭.১ ওভার। কার্যত রানের চাপ বাড়তে থাকে। সেই চাপ নিতে না পেরে ১৪৬ রানেই অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ।

এবার একটু অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ২০২০ আসরে ফিরে যাওয়া যাক। জয়সওয়াল ছয় ইনিংসে ১৩৩ গড়ে রান করেছিলেন ৪০০। তাঁর আশেপাশেও কেউ ঘেষতে পারেনি। তবে স্ট্রাইক রেট ছিল মাত্র ৮২। বর্তমান জয়সওয়ালের ঠিক উলটোটা। এর পেছনের কারণও অবশ্য ছিল।

জয়সওয়ালের আগ্রাসী ব্যাটিং স্বত্তা সম্পর্কে সবাই অবগত ছিলেন। তবে ব্যাসিকটা ঠিকঠাক করতেই ম্যানেজমেন্ট থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, জয়সওয়াল শুধুমাত্র অ্যাংকোরিং রোল প্লে করবেন। পরের ঘটনা সবারই জানা, জয়সওয়াল এখন বিশ্ব ক্রিকেটের প্রতিষ্ঠিত নাম।

আজিজুল হাকিমের ক্ষেত্রেও একই বিষয় খাটে। তিনিও আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের বরাতে লাইমলাইটে আসেন। তবে সময়ের কালক্রমে কেমন যেন খোলসে আটকা পড়ে গেছেন। ধীরগতির ব্যাটিং করে রান পাচ্ছেন তবে বিপদ বাড়ছে দলের। যদি কৌশল হয়, ম্যানেজমেন্ট থেকে জয়সওয়ালের পদাঙ্ক অনুসরণের বার্তা দেওয়া হয় সেটা ভিন্ন বিষয়।

আধুনিক ক্রিকেট বদলে যাচ্ছে সময়ের সাথে সাথে। এখানে বলের সাথে পাল্লা দিয়ে রান তুলতে হয়। তামিমের ব্যাটিং দেখার পর মনে হতে পারে ক্রিকেটটা এখনও ১০-১৫ বছর আগের সময়ে পড়ে আছে। আর এটাই যে চিন্তার বিষয়। সময়ের সাথে পাল্লা দিতে না পারলেও তামিমের ক্যারিয়ারও যে গড়পড়তা হিসেবেই গণ্য হবে।

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

Share via
Copy link