চট্টগ্রামে পুলিশি হেনস্তার শিকার হয়েছেন নাইম হাসান। ডিবি পরিচয়ে তাকে আটক করা, এরপর থানায় নেওয়ার পথে গায়ে হাততোলার মতো নিন্দনীয় ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছে ক্রিকেট মহলকে। একজন জাতীয় দলের ক্রিকেটারের এমন নিরপত্তা শঙ্কট নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়। যার উত্তর দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড(বিসিবি)।
অভিযোগ অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে ফেরার পথে নাঈম হাসানকে ডিবি পরিচয়ে কয়েকজন ব্যক্তি থামান এবং তাকে আটক করার চেষ্টা করেন। এরপর তাকে থানায় নেওয়ার প্রক্রিয়ার আগেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নাঈমের দাবি, এ সময় তার গলা চেপে ধরা হয় এবং লাঠি দিয়ে আঘাত করার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হয়। জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে নিজের পরিচয় দেওয়ার পরও কোনো ধরনের ছাড় মেলেনি বলেও অভিযোগ তার।
তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাধারণ মানুষও তার পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু সবকিছু উপেক্ষা করেই তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পুরো ঘটনার সময় নাঈম মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং পরবর্তীতে বিষয়টি গণমাধ্যমের সামনে বলতে গিয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি।

ঘটনার পরপরই বিষয়টি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নজরে আসে। নাঈম হাসান নিজেই বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। জানা গেছে, তিনি বিসিবি সভাপতি এবং বোর্ড পরিচালকদের বিষয়টি অবহিত করেন।
এদিকে বিসিবি দ্রুত এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেয়। এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড জানায়, জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যের কথিত আচরণ ও হেনস্তার ঘটনায় তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। বোর্ড এই ঘটনাকে “অগ্রহণযোগ্য” হিসেবে উল্লেখ করে এবং এর তীব্র নিন্দা জানায়।
বিসিবি আরও জানায়, তারা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত চায় এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছে। একই সঙ্গে বোর্ড নিশ্চিত করেছে যে ঘটনার খবর পাওয়ার পর থেকেই তারা নাঈম হাসান ও তার পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে।

বোর্ডের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, একজন জাতীয় ক্রীড়াবিদের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষা করা তাদের মৌলিক দায়িত্ব। ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা আর না ঘটে, সে বিষয়ে তারা আরও কঠোর অবস্থান নেবে।
এই ঘটনার পর এখন সবার চোখ তদন্তের দিকে। কিন্তু সবচেয়ে বড় প্রশ্ন রয়ে গেছে, একজন জাতীয় দলের ক্রিকেটারের সঙ্গে এমন ঘটনা কীভাবে ঘটল, এবং এর জবাবদিহি শেষ পর্যন্ত কারা দেবে?









