একুশ শতকের ফুটবলে যেভাবে সফল হল স্পেন

২০১০ ফাইনালে ইনিয়েস্তার সেই জয়সূচক গোল কিংবা ’২৬ বিশ্বকাপে ইয়ামালদের অনবদ্য আধিপত্য—সবই যেন ফুটবলের অনন্য শৈলী। কিন্তু কীভাবে স্পেন সফল হলো?

স্পেনের ফুটবল মানেই মাঠের ক্যানভাসে লেখা এক দীর্ঘ মহাকাব্য। ২০১০ সালের ফাইনালে জোহানেসবার্গে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার সেই জয়সূচক গোল কিংবা সদ্য সমাপ্ত হওয়া বিশ্বকাপে দানি অলমো-রদ্রি-লামিন ইয়ামালদের অনবদ্য আধিপত্য—সবই যেন ফুটবলের এক অনন্য শৈলী। কিন্তু একুশ শতকের বিশ্ব ফুটবলে হঠাৎ কীভাবে স্পেন সফল হলো?

স্পেনের সাফল্যের বীজ মূলত রোপিত হয় ২০০৮ সালে। দেশটির কিংবদন্তি কোচ লুইস আরাগোনেস এক অমোঘ সত্য আবিষ্কার করেন। তিনি বুঝতে পারেন, স্প্যানিশ ফুটবলাররা জন্মগতভাবে দ্রুততম বা শারীরিকভাবে শক্তিশালী না হলেও তাদের ফুটবলীয় মগজ চলে দারুণ গতিতে। এছাড়া, ‘সমন্বিত বুদ্ধিমত্তা’ বেশি থাকায় গায়ের জোর বা তারকানির্ভরতার চেয়ে টিম পারফরম্যান্সের ওপর বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকে লা রোজারা।

তাই দলবদ্ধভাবে বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখো, ‘টিকি-টাকা’ পাস খেলো, আর রক্ষণ জমাট রেখে সুযোগ বুঝে গোল বের করে আনো—এই দর্শনই স্প্যানিশ ফুটবল বিপ্লবের মূল।

তবে লা রোজা ফুটবলারদের শুধুমাত্র বলের দখল রাখতে শেখানো হয় না। বরং তাদের শেখানো হয় কীভাবে মাঠের পরিস্থিতি দ্রুত পড়ে ফেলতে হয়। ২০১০ সালের সেই অভিজ্ঞদের দল থেকে শুরু করে ২০২৬-এর রদ্রি বা ফাবিয়ান রুইজদের নতুন প্রজন্ম সবার ক্ষেত্রে এটা ধ্রুব সত্য।

স্প্যানিশ ফুটবল ম্যানেজার আইতর কারাঙ্কার মতে, স্প্যানিশ কোচদের এই প্রগতিশীল ভাবনাই আজ শাসন করছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের মতো জায়গাতেও। সঙ্গে আধুনিক ডেটা অ্যানালাইসিস আর ট্যাকটিক্যাল গেম রিডিংয়ের অনন্য মিশেলে স্পেন ফুটবলের অজেয় শক্তিতে পরিণত হয়েছে। তাদের দর্শন পরিষ্কার—শুধু বলের পেছনে না দৌঁড়ে বুদ্ধিদীপ্ত মুভমেন্ট, কার্যকর পাস, জমাট রক্ষণ আর পরিকল্পিত আক্রমণের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করা।

স্পেনের সাফল্য শুধু পুরুষ ফুটবলেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ২০২৩ সালে স্প্যানিশ নারীদের বিশ্বজয় প্রমাণ করেছে তাদের এই ফুটবল ইকোসিস্টেম কতটা শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। উপমহাদেশীয় কিংবা বৈশ্বিক বয়সভিত্তিক ফুটবল টুর্নামেন্টগুলোতেও স্প্যানিশ আধিপত্য যথারীতি চলছে।

মাঠের লড়াইয়ে লা রোজাদের নিঁখুত ফুটবলীয় শিল্প আর হার না মানার মানসিকতাই তাদের একবিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পরিয়েছে। এই শতাব্দীতেই তারা দু-দুবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে। গত পাঁচ বছরে ফুটবলের নানা শাখায় তাদের ১৬টি আন্তর্জাতিক শিরোপা জয় স্পষ্ট করে এখন ফুটবলে বিপ্লব ঘটে মগজ আর মনন দিয়ে, শুধু শরীরের মাধ্যমে নয়।

লেখক পরিচিতি

সাব এডিটর

Share via
Copy link