১৯৯০-এর রোম আর ২০২৬-এর নিউ জার্সি। মাঠ আর সময় আলাদা হলেও ট্র্যাজেডিটা যেন একই রেখায় মিশে গেল। বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে লিওনেল মেসির স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা মনে করিয়ে দিল অঝোর কান্নায় ভেঙে পড়া ৯০-এর দিয়েগো ম্যারাডোনাকে।
দুই জাদুকরই চেয়েছিলেন নিজেদের শেষ বেলায় বিজয়ের মুকুটটা ধরে রাখতে। কিন্তু ফুটবল বিধাতা লিখে রেখেছিলেন ভিন্ন এক চিত্রনাট্য।
দুই ফাইনালেই আলবিসেলেস্তেরা প্রতিপক্ষের কাছে ভীষণ কোণঠাঁসা হয়ে পড়ে। ১৯৯০-এ জার্মানির বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার বল পজেশন ছিল ৩৯ শতাংশ। আর এবার অপ্রতিরোধ্য স্পেনের দাপটে সেটা নেমে আসে মাত্র ৩৫ শতাংশে। সেবার লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন আর্জেন্টিনার গুস্তাভো দেজোত্তি। এবার এনজো ফার্নান্দেজের দ্বিতীয় হলুদ কার্ড ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয় নীল-সাদাদের।

৯০-এর ম্যারাডোনার ছায়াও যেন প্রতিনিয়ত তাড়া করছিল মেসিকে। ১৯৯০-এ দিয়েগো কোয়ার্টার ফাইনালে পেনাল্টি মিস করেন। একইভাবে, এবার শেষ ষোলোতে মিশরের বিরুদ্ধে একই ভুল করেন মেসি। ম্যারাডোনাকে আটকাতে ফাইনালে জার্মানির ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার তুরুপের তাস বানান গুইডো বুখওয়াল্ডকে। আর মেসিকে নজরদারিতে রাখতে স্প্যানিশ কোচ ব্যবহার করেন রদ্রি হার্নান্দেজ আর মার্ক কুকুরেয়াকে।
৯০-এ ম্যাচের শেষ লগ্নে আন্দ্রেয়াস ব্রেহমের পেনাল্টি থেকে গোল আর্জেন্টিনাকে শিরোপাবঞ্চিত করে। অথচ গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটাতে তারকা ম্যারাডোনার উপস্থিতিই যেন টের পাওয়া যায়নি সেদিন রোমে। গতি, আক্রমণ বা ড্রিবলিং কিছুই ছিল না তার পায়ে।
তেমনিভাবে, এবার ঘাতকের ভূমিকায় আসেন লা রোজা ফরোয়ার্ড ফেরান তোরেস। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আঘাত হানেন তিনি। গোটা ম্যাচে নিষ্প্রভ থাকা মেসি ১১৭ মিনিটে সমতা ফেরানোর শেষ চেষ্টা করলেও, তা রুখে দেন মিকেল মেরিনো। ফলাফল? শূন্য হাতে গোলে শট না নিয়েই মেসিদের বিদায়।

মেটলাইফে রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই নজরে আসে সেই মহাকাব্যিক দৃশ্য। যেন কালের আবর্তে দুই জাদুকর এক বিন্দুতে মিশে গেলেন। আবারও চোখের জলে মাঠ ছাড়তে হলো এক ট্র্যাজিক হিরোকে। ২৬-র মেসির ওপর পড়ে রইল ৯০-র ম্যারাডোনার ছায়া।










